1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষঃ
রিয়ালের প্রস্তাব ফিরিয়ে বার্সেলোনায় রদ্রি মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব পাকিস্তানের নোমান মাহমুদ শি জিনপিংকে ট্রাম্পের স্বাগত, বাণিজ্যবিরতি বাড়ল ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে স্লিপার বাসে আগুন, নিহত ৯ বোয়িং থেকে আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে তারেক রহমানের সঙ্গে পেজেশকিয়ানের বৈঠক বারিধারায় নির্মাণশ্রমিক নিহত: প্রাইভেটকারে থাকা কিশোর গ্রেফতার ‘মাথা নত করব না, হাঁটু গেড়ে বসব না’: জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচগুণ, ব্যয়সীমা বাড়ল দ্বিগুণ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তারেক রহমানের ৫ প্রস্তাব

কোরআন: মানবজাতির জন্য আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ হেদায়েত

ইসলামিক ডেস্ক
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আল্লাহতায়ালা আসমানি কিতাবগুলোর মধ্যে পবিত্র কোরআনকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। এতে পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবগুলোর উত্তম শিক্ষা একত্র করা হয়েছে এবং এমন পূর্ণতা রয়েছে, যা অন্য কোনো কিতাবে ছিল না। এ কারণে কোরআন আগের কিতাবগুলোর সত্যতা যাচাইকারী, সংরক্ষক ও ফয়সালাকারী।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা এর আগের অবতীর্ণ কিতাবের প্রত্যয়নকারী ও সংরক্ষকরূপে।’ (সুরা মায়িদা : ৪৮)

আসমান থেকে নাজিল হওয়া কিতাবগুলোর মধ্যে কোরআন সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ হেদায়েতের উৎস। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সবচেয়ে সুন্দর বাণী। কোরআনের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা তাঁর রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘কোরআন তো তোমার ও তোমার সম্প্রদায়ের জন্য সম্মানের বস্তু; তোমাদের অবশ্যই এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে।’ (সুরা জুখরুফ : ৪৪)

কোরআনকে আল্লাহতায়ালা মহিমান্বিত, সম্মানিত ও শক্তিশালী কিতাব হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর ভাষাশৈলী, বাগ্মিতা, গঠন ও উপস্থাপনা এতটাই অনন্য যে মানুষকে এর অনুরূপ কিছু রচনা করার চ্যালেঞ্জ দেওয়া হলেও তারা তা করতে পারেনি। কখনো পুরো কোরআনের মতো কিতাব, কখনো দশটি সুরা এবং এমনকি একটি সুরার অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জও দেওয়া হয়েছে।

কোরআন কবিতা নয়, সাধারণ গদ্যও নয়; এটি আল্লাহর বিশেষ বাণী। এর আয়াতের ভাষায় একই সঙ্গে দৃঢ়তা, সৌন্দর্য, শক্তি ও কোমলতার অপূর্ব সমন্বয় রয়েছে। আরবের তৎকালীন বিখ্যাত কবি ও বাগ্মীরাও কোরআনের ভাষার অনন্যতা স্বীকার করেছিলেন। কুরাইশের প্রভাবশালী কবি ও বাগ্মী ওয়ালিদ ইবনু মুগীরা কোরআনের বাণী সম্পর্কে এর ব্যতিক্রমী ভাষাশৈলীর কথা উল্লেখ করেছিলেন।

অন্যদিকে কোরআনের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—এটি গভীর ও মহান বাণী হলেও আল্লাহতায়ালা মানুষের জন্য তা সহজ করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘কোরআন আমি সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?’ (সুরা কামার : ১৭)

কোরআন সত্য ও মিথ্যার ফয়সালাকারী। এতে ঈমান ও আকিদা, শরিয়তের বিধান, নৈতিকতা, পূর্ববর্তী জাতির ঘটনা, উপদেশ এবং দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতার পথনির্দেশ রয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘এই কোরআন সৎপথের দিশারী; যারা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলি প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য রয়েছে অতিশয় মর্মন্তুদ শাস্তি।’ (সুরা জাসিয়া : ১১)

কোরআনের আয়াত মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। এর তেলাওয়াত মানুষের হৃদয়কে নরম করে এবং আল্লাহর প্রতি ভয় ও বিনয় সৃষ্টি করে। আয়াতুল কুরসি কোরআনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আয়াত। হাদিসে এসেছে, রাতে শোয়ার আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষাকারী নিযুক্ত থাকেন এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তার কাছে আসতে পারে না। (বোখারি : ৩২৭৫)

সুরা ফাতেহার প্রথম তিন আয়াত পাঠের সময় বান্দার প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনার জবাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ সাড়া দেওয়ার কথা সহিহ হাদিসে এসেছে। (মুসলিম : ৭৬৪) একইভাবে সুরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করার মাধ্যমে দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষার কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। (মুসলিম : ১৭৬৮)

কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে রোগ নিরাময়ের ঘটনাও হাদিসে পাওয়া যায়। একবার এক সাহাবি সুরা ফাতেহা পাঠ করে সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক ব্যক্তির ওপর ঝাড়ফুঁক করেন। পরে ওই ব্যক্তি সুস্থ হয়ে ওঠেন। ঘটনাটি সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে।

কোরআনের তেলাওয়াত শুধু ব্যক্তির হৃদয়েই প্রভাব ফেলে না, এটি মানুষের জীবন ও সমাজ পরিবর্তনের শক্তিও রাখে। হজরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনায় জানা যায়, হিজরতের আগে হজরত আবু বকর (রা.) তাঁর বাড়ির আঙিনায় একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে তিনি নামাজ আদায় ও কোরআন তেলাওয়াত করতেন। তাঁর তেলাওয়াত শুনতে মুশরিকদের নারী ও শিশুরাও দাঁড়িয়ে যেত। তাঁর কান্নাভেজা তেলাওয়াত তাদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। (বোখারি : ৩৯০৫)

কোরআনের আয়াত সাহাবিদের জীবনেও আমূল পরিবর্তন এনেছিল। মদ হারাম হওয়ার ঘোষণা আসার পর যখন বলা হলো, ‘অতএব, তোমরা কি নিবৃত্ত হবে না?’ (সুরা মায়েদা : ৯১), তখন হজরত ওমর (রা.) বলেছিলেন, ‘আমরা থেমে গেলাম, আমরা থেমে গেলাম।’ এরপর মদ ঢেলে দেওয়া হয়েছিল। (মুসলিম : ৫০২৫)

কোরআন মানুষের ঈমান বৃদ্ধি করে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন এর আয়াত তাদের নিকট পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে।’ (সুরা আনফাল : ২)

কোরআন তেলাওয়াতের প্রতিটি অক্ষরের জন্যও সওয়াবের কথা হাদিসে এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আল্লাহর কিতাব থেকে একটি হরফ পড়বে, সে একটি সওয়াব পাবে, আর একটি সওয়াব দশগুণ হয়ে যাবে।’ (তিরমিজি : ২৯১০)

সাহাবায়ে কেরাম কোরআনের কোনো শিক্ষা বা ওহির বিষয় মিস করতে চাইতেন না। হজরত ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি ও তাঁর এক আনসারি প্রতিবেশী পালা করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে যেতেন। একজন যেদিন যেতেন, তিনি সেদিনের ওহি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্যজনকে জানিয়ে দিতেন। (বোখারি : ৮৯)

কোরআন নাজিল হওয়ার পর পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের অনুসারীদের মধ্যেও অনেকে এর সত্যতা উপলব্ধি করেছিলেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি যাদের কিতাব দিয়েছি তারা যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তাতে আনন্দ পায়।’ (সুরা রাদ : ৩৬)

কোরআন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সত্য নবুয়তের অন্যতম বড় মুজিজা। অন্যান্য নবী-রাসুলের মুজিজা তাঁদের সময়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও কোরআনের মুজিজা কেয়ামত পর্যন্ত মানুষের সামনে অটুট থাকবে। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক নবীকে তাঁর যুগের উপযোগী মুজিজা দেওয়া হয়েছিল; আর তাঁকে যে মুজিজা দেওয়া হয়েছে, তা হলো আল্লাহর অবতীর্ণ ওহি। (বোখারি : ৪৯৮১)

মহান আল্লাহ নিজেই কোরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। ফলে যুগের পর যুগ ধরে কোরআন তার মূলরূপে সংরক্ষিত রয়েছে। কোরআনের বাণী মানুষের হৃদয়েও সংরক্ষিত হয়েছে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য মানুষ তা মুখস্থ করেছেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর ওহি নাজিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সাহাবিদের হৃদয়ে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তারও বর্ণনা হাদিসে রয়েছে। হজরত আবু বকর (রা.) ও হজরত ওমর (রা.) একবার উম্মে আইমান (রা.)-এর কাছে গেলে তিনি কাঁদতে শুরু করেন। তাঁরা কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আল্লাহর কাছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য যা রয়েছে তা উত্তম, কিন্তু আকাশ থেকে আর ওহি নাজিল হবে না—এ কারণে তিনি কাঁদছেন। এতে আবু বকর (রা.) ও ওমর (রা.)-ও কেঁদে ফেলেন। (মুসলিম : ৬২১২)

কোরআনের মর্যাদার কারণে এর পাঠক ও হাফেজদেরও বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরআন শেখা ও শেখানো ব্যক্তিদের গুরুত্ব দিতেন। সাহাবায়ে কেরামও কোরআনের জ্ঞানীদের বিশেষ মর্যাদা দিতেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন।

কোরআন মানুষের জন্য আল্লাহর এক মহান অনুগ্রহ ও রহমত। এতে রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের পথনির্দেশ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘বলো, এটা আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর দয়ায়; সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক। তারা যা পুঞ্জীভূত করে তা অপেক্ষা এটা শ্রেয়।’ (সুরা ইউনুস : ৫৮)

তাই একজন মুসলমানের জীবনে কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোরআন শুধু তেলাওয়াতের জন্য নয়; এর শিক্ষা বোঝা, অনুসরণ করা এবং জীবনে বাস্তবায়ন করাই এর প্রকৃত উদ্দেশ্য। যে ব্যক্তি কোরআন শেখে, বুঝতে চেষ্টা করে এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে, তার জন্য কোরআন দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page