
যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া সাত দিনের রোডম্যাপ প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউস থেকে টেনেসির উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি।’
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছিল, যুদ্ধের অবসান এবং সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে আরাঘচি জানিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করা হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং আলোচনা শুরু করা সম্ভব।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গত মঙ্গলবার জাপানের সংবাদ সংস্থা ‘কিয়োদো’ প্রথম এ ধরনের প্রস্তাবের খবর প্রকাশ করে। তবে একই দিন ইরানি গণমাধ্যমে প্রতিবেদনটির দাবি অস্বীকার করা হয়। ওই দিনই নিউইয়র্কে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন আরাঘচি।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে আরাঘচির বরাত দিয়ে বলা হয়, সর্বশেষ প্রস্তাবে সাত দিনের জন্য লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যে সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ইরানের জব্দ করা অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড়, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার শর্তও প্রস্তাবে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শর্তগুলো পূরণ হলে সপ্তম দিনে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে বলে আরাঘচি জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এ পরিকল্পনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
চীনও ইরানের এ প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে শনিবার সকালে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল কয়েকজন মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, নভেম্বরের শুরুতে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প ইরানে আবারও বোমা হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তেহরানের দাবিগুলোর মধ্যে ইয়েমেনে শত্রুতা বন্ধের বিষয়টিও রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা