
সাগরের নীল জলরাশির পাশে ঝিনুকের আকৃতির দৃষ্টিনন্দন নতুন প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে কক্সবাজার বিমানবন্দরে। সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে টার্মিনালটির কার্যক্রম চালু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম আরও এক ধাপ এগিয়েছে।
২৬৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নতুন টার্মিনাল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ভবনটিতে একসঙ্গে ৫০০ যাত্রী বহির্গমন এবং ৫০০ যাত্রী আগমন করতে পারবেন। আন্তর্জাতিক বহির্গমনের জন্য রয়েছে চারটি এবং আগমনের জন্য ছয়টি ইমিগ্রেশন কাউন্টার।
এ ছাড়া টার্মিনালে দুটি লাগেজ বেল্ট, লিফট, এস্কেলেটর, চেক-ইন কাউন্টার, লাউঞ্জ, ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে, সিসিটিভি ও আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে।
কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক মো. গোলাম মোর্তজা হোসেন জানান, সোমবার সকাল ৭টা থেকে নতুন টার্মিনালের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমান, ইউএস-বাংলা, এয়ার অ্যাস্ট্রা ও নভোএয়ারের ৫০টি ফ্লাইট ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচল করেছে।
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. ইউনুস ভূঁইয়া জানান, আগামী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিমানবন্দরটির উদ্বোধন করবেন। একই সময়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতিও চলছে।
বিমানবন্দরটির ১০ হাজার ৭০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ের ১ হাজার ৭০০ ফুট অংশ সাগরের ওপর নির্মিত হয়েছে। সমুদ্রঘেঁষা এই রানওয়ে ইতোমধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজারে আসার সুযোগ তৈরি হবে। এতে পর্যটন খাতের পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।