
চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হলেও জেলার সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় এখনও প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বন্যায় জেলার ১৫টি উপজেলায় মোট সাড়ে ৬ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন। সেখানে এখনও প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। অপরদিকে বাঁশখালীর ১৫টি ইউনিয়নে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষ এখনো বন্যার পানিতে আটকা আছেন।
বর্তমানে সাতকানিয়ার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ৩০০ জন এবং বাঁশখালীর বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ৭২৫ জন অবস্থান করছেন। জেলা জুড়ে মোট ৪১৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ১৬ হাজার ৮২১ জন।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরসহ মীরসরাই, সীতাকুণ্ড, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, সাতকানিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, সন্দ্বীপ, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, বাঁশখালী ও কর্ণফুলী উপজেলা। জেলার ১২২টি ইউনিয়ন বা এলাকা এই দুর্যোগের কবলে পড়েছে।
এদিকে বন্যা ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু এবং ১২ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে প্রশাসন।
দুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকার এক হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ৮৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ হাজার ৮০০ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ১৯ হাজার ৯৫০ জনের জন্য রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৯১৫ মেট্রিক টন চাল ও ৭০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পানি কমতে শুরু করায় অনেক মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। বর্তমানে ৯২টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫টি চালু রয়েছে।
তিনি বলেন, যাদের অন্য কোথাও আশ্রয়ের সুযোগ ছিল না, মূলত তারাই আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পাশের বহুতল ভবনে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে পানি নেমে যেতে শুরু করলেও কিছু এলাকায় এখনও সড়ক পানির নিচে রয়েছে। বৃষ্টি না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার পর্যন্ত সাতকানিয়ার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ ছিলেন। পানি কমতে শুরু করায় তাদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন ইতোমধ্যে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।
অন্যদিকে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, উপজেলায় এখনও প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার ঘরে ফিরতে শুরু করলেও চার হাজারের বেশি কাঁচা ঘর ধসে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে প্রশাসনের দল মাঠে কাজ করছে। বৃষ্টি না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বন্যার পানি নেমে যাবে এবং পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।