
দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভের ঘটনায় ৯০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। অধিকাংশ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও কয়েকটি এলাকায় সহিংসতা, লুটপাট ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বুধবার (২ জুলাই) দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দেশজুড়ে মোট ১২০টি বিক্ষোভ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১০৮টি বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হলেও বাকি ১২টিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের উপকমিশনার তেবেলো মোসিকিলি জানান, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন, জনসমক্ষে সহিংসতা, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারী অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার গভীর রাতে জোহানেসবার্গের আলেকজান্দ্রা টাউনশিপে গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত হন। এ সময় বিদেশি নাগরিকদের মালিকানাধীন স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘স্পাজা’ দোকানগুলোতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ আফ্রিকার নয়টি প্রদেশের মধ্যে পাঁচটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া জোহানেসবার্গের কেন্দ্রীয় এলাকা হিলব্রোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, বন্দরনগরী ডারবানে এক বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনাও তদন্ত করছে পুলিশ। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বিক্ষোভের আগের রাতে তিনি একটি বহুতল ভবনের অষ্টম তলা থেকে লাফ দেন। পরে তার মৃত্যু হয়। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিবাসীবিরোধী একটি সংগঠন বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থানরত অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেছিল। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার দিনই দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
গত কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসীবিরোধী উত্তেজনা বাড়ছিল। এ সময় কিছু এলাকায় বিদেশি নাগরিকদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স