
ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় ট্রাম্পকে হত্যার দাবিতে স্লোগান দেওয়ার পর তেহরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার (১১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যদি তাকে হত্যার হুমকি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে ভয়াবহ সামরিক জবাব দেবে।
তিনি লেখেন, ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের দিকে ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাক করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমাকে হত্যার যেকোনো চেষ্টা হলে মুহূর্তের মধ্যে ইরানে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানবে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, প্রয়োজনীয় নির্দেশ ইতোমধ্যে জারি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক অভিযান চালাতে মার্কিন বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত।
এর আগে ইসরায়েল ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে জানায়, ট্রাম্পকে হত্যার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে তেহরান সক্রিয় রয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
সিএনএন এবং দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের একটি নতুন ও সক্রিয় ষড়যন্ত্রের তথ্য পাওয়া গেছে।
২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই তেহরান প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে চলতি সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক থেকে ফেরার সময় মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ট্রাম্পকে বিমান পরিবর্তনের পরামর্শও দিয়েছিল।
এদিকে, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার হরমুজ প্রণালির কাছে কাতার ও সৌদি আরবের ট্যাংকারে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পরে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তেহরানের সঙ্গে কার্যত যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটেছে।
অন্যদিকে, ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন, ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমঝোতা ভঙ্গ করলে ইরান পূর্ণমাত্রার আত্মরক্ষামূলক লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।
উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইতোমধ্যে তেহরান সফর করেছেন। এছাড়া কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অবস্থান করছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত হিসেবে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে হবে, পারমাণবিক সামগ্রী হস্তান্তর করতে হবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা দিতে হবে।