1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ন

নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ঢাকায় আসছে আইএমএফের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল

মিডিয়া ডেস্ক
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে পাঁচ দিনের সফরে ঢাকায় আসছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১২ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সফরে তারা বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচির কাঠামো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আগামীকাল রোববার (১২ জুলাই) থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আইএমএফ প্রতিনিধিদলের আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হবে। একই দিন সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইএমএফের মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশন প্রধান ইভো ক্রজনার।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সফরে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা, সরকারের নতুন সংস্কার কর্মপরিকল্পনা, রাজস্ব সংস্কারের অগ্রগতি, ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনের রোডম্যাপ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচির আকার ও কাঠামো পর্যালোচনা করবে। অর্থাৎ এটি পূর্ণাঙ্গ ঋণ আলোচনা নয়; বরং ভবিষ্যৎ কর্মসূচির ভিত্তি তৈরির একটি মূল্যায়ন সফর।

আইএমএফের সাবেক কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, এবারের সফরের মূল লক্ষ্য হবে সরকার অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নে কতটা আন্তরিক এবং প্রস্তুত, তা মূল্যায়ন করা। তার মতে, এনবিআর সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূরীকরণ, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার বাস্তবায়ন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নবম পে-স্কেলের অর্থায়নের বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

বাংলাদেশ ২০২৩ সালে আইএমএফের কাছ থেকে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচি নেয়, যা পরে বেড়ে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ছাড় করা হলেও ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ এখনো আটকে রয়েছে। রাজস্ব আহরণে ধীরগতি, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া, ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের ঘাটতি, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা এবং জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু না হওয়াই এর প্রধান কারণ।

নতুন সরকার ইতোমধ্যে আইএমএফকে জানিয়েছে, আগের কর্মসূচির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে গেছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন তিন বছরের ঋণ কর্মসূচি প্রয়োজন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন কর্মসূচি অনুমোদিত হলে কর ও ভ্যাটের আওতা বৃদ্ধি, কর অব্যাহতি কমানো, জ্বালানি ভর্তুকি হ্রাস, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের মতো পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে সরকার জানিয়েছে, এসব সংস্কার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

এবারের সফরে সরকারের ঘোষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে। চলতি অর্থবছরেই এটি বাস্তবায়নে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। আর পূর্ণ বাস্তবায়নের পর প্রতিবছর অতিরিক্ত ব্যয় হবে এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই অর্থের উৎস, বাজেট ঘাটতির ওপর প্রভাব এবং মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আইএমএফ জানতে চাইতে পারে।

আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কম কর-জিডিপি অনুপাতকে বড় অর্থনৈতিক দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করে আসছে। তাই নতুন কর্মসূচিতে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, কর অব্যাহতি কমানো, ভ্যাট ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, এনবিআরের ডিজিটাল সংস্কার, কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং করের আওতা সম্প্রসারণ গুরুত্ব পেতে পারে।

ব্যাংকিং খাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেবে আইএমএফ। খেলাপি ঋণ কমানো, দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন, পরিচালনা পর্ষদে সুশাসন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি জোরদার, মূলধন ঘাটতি পূরণ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংস্কারের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে।

এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতিও আলোচনায় থাকবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানে রিজার্ভ কিছুটা শক্তিশালী হলেও এর অন্যতম কারণ আমদানি কমে যাওয়া। ভবিষ্যতে শিল্প উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়লে আমদানিও বাড়বে। তাই রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসইভাবে রিজার্ভ শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হবে।

উচ্চ বাজেট ঘাটতি, উন্নয়ন ব্যয়ের চাপ, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, এলডিসি উত্তরণের পর সহজ শর্তের ঋণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা, বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার নতুন তিন বছরের আইএমএফ কর্মসূচি চেয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ১২ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত এই সফর শুধু নতুন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেই নয়, বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থা, ব্যাংকিং খাত, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংস্কারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page