
আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও আইনি পর্যালোচনা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৯ জুলাই) প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) অভিযুক্ত একজন যুদ্ধাপরাধী। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া উচিত এবং তাকে দ্য হেগের আদালতের মুখোমুখি করা প্রয়োজন।
নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, বিষয়টি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। যদিও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ সিটি প্রশাসনের অধীন পরিচালিত হয়, তবুও একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা মেয়রের রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
মামদানি বলেন, “আমার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত একজন যুদ্ধাপরাধী। গত কয়েক বছরে তার কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকেই এই মত পোষণ করেন।”
তিনি আরও জানান, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে নিবিড়ভাবে আলোচনা চলছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মামদানির এই বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। জাতিসংঘে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে অভিযোগ করেন, নিউইয়র্কে ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলার পরিবর্তে মেয়র জোহরান মামদানি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শত্রুতা উসকে দিয়ে আলোচনায় আসতে চাইছেন।
ড্যানন আরও বলেন, “এতে কিছুই পরিবর্তন হবে না। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসবেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং ইসরায়েলের অবস্থান ও দেশটির আত্মরক্ষার অধিকারের কথা বিশ্বের সামনে তুলে ধরবেন। আর যদি কাউকে গ্রেপ্তার করতেই হয়, তবে তা হওয়া উচিত নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে।”
এর আগে সম্প্রতি নিউইয়র্কের একটি রেডিও অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থনের অভিযোগ তোলেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, “আমার মনে হয়, গোপনে তিনি আমেরিকাকে ঘৃণা করেন।”
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এর আগে গাজা যুদ্ধসংক্রান্ত অভিযোগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।