
ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সোমবার (২০ জুলাই) দায়িত্ব নিচ্ছেন লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ২০১৬ সালের পর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করা ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন তিনি।
৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যাম বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। মাত্র দুই বছর আগে ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটিয়ে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে লেবার পার্টিকে ক্ষমতায় আনেন স্টারমার। তবে জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, রাজা তৃতীয় চার্লসের আমন্ত্রণে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর বাকিংহাম প্রাসাদ থেকে ফিরে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণ দেবেন বার্নহ্যাম।
রোববার প্রকাশিত দ্য টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত এক দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটানোই হবে তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
বার্নহ্যাম বলেন, “আমরা এতদিন যেভাবে কাজ করেছি, তা সফল হয়নি। আমি ভিন্নভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।”
তার কার্যালয় জানিয়েছে, প্রথম ভাষণে তিনি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলা, সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও আঞ্চলিক প্রশাসনের হাতে আরও ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়েও গুরুত্ব দেবেন।
দায়িত্ব গ্রহণের দিনই নতুন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী হিসেবে র্যাচেল রিভসের উত্তরসূরি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিত। গত মাসে কেয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর লেবার পার্টি তাকে নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। দলটির অনেক সংসদ সদস্যের মতে, অভিবাসনবিরোধী রিফর্ম ইউকে পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজের জনপ্রিয়তার মোকাবিলায় বার্নহ্যামই লেবারের সবচেয়ে শক্তিশালী মুখ।
লেবার পার্টির উপনেতা লুসি পাওয়েল বলেন, কেন্দ্রীয় প্রশাসনের বাইরে মেয়র হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বার্নহ্যাম আরও বড় ও সাহসী পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
তবে দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই তাকে একাধিক কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। দুর্বল অর্থনীতি, উচ্চ সরকারি ঋণ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক কল্যাণ খাতে বাড়তি ব্যয় এবং ছোট নৌকায় করে অনিয়মিত অভিবাসীদের আগমন তার সরকারের জন্য বড় পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে জ্বালানির মূল্য অস্থিরতা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগত অবস্থানও ব্রিটিশ অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, সরকারি ব্যয় ও অর্থনীতি পরিচালনায় তিনি ভিন্নধর্মী কৌশল গ্রহণ করবেন। তার মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে বিনিয়োগ বাড়ানো, আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ এবং মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এর আগে ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বার্নহ্যাম। টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের সরকারেও তিনি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সাধারণ মানুষের নেতা হিসেবে নতুন পরিচিতি গড়ে তোলেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, আগামী সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে তার হাতে সময় খুবই সীমিত। জনমত জরিপে ইঙ্গিত মিলছে, ২০২৯ সালের নির্বাচনে রিফর্ম ইউকে পার্টি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে।
বার্নহ্যাম অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেছেন, লেবার পার্টির সামনে এখনও পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে এবং সেই লক্ষ্যেই তিনি একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন।