
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদের ঘরের মাঠে ৫৭ রানের লক্ষ্য দিয়ে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে টাইগাররা। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের এই জয় দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ তৈরি করে বাংলাদেশ। প্রথম দিনেই বাংলাদেশের পেসারদের দাপটে ২০০ রানের আগেই অলআউট হয় স্বাগতিকরা। এরপর ব্যাট হাতেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখায় সফরকারীরা।
তানজিদ হাসান তামিমের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির পাশাপাশি নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজের হাফ সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। টেলএন্ডারদের কার্যকর অবদানে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে তারা। ফলে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ২২৮ রান।
এত বড় লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়া শুরুতেই চাপে পড়ে। বাংলাদেশের বোলারদের সামনে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও অস্ট্রেলিয়ার লিড বড় হতে দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ।
বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন মিরাজ। তিনি একে একে অ্যালেক্স ক্যারি, বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন। গ্রিন ও মিচেল স্টার্কের জুটিতে অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত লিড নিলেও তা বাংলাদেশের নাগালের বাইরে যায়নি।
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় এমন এক অবস্থানে, যেখানে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫৭ রান।
জয়ের লক্ষ্যে নেমে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তানজিদ হাসান তামিম শূন্য রানে ফিরে গেলেও কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। তারা দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন বাংলাদেশকে।
এর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট করেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু মূল ম্যাচে সেই অস্ট্রেলিয়াকেই নিজেদের মাটিতে হারিয়ে নতুন ইতিহাস লিখল বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয় বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। একই সঙ্গে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ঐতিহাসিক সাফল্যকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে টাইগাররা।