1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ন

বিশ্ববাজারে কমছে তেলের দাম, খাতুনগঞ্জে উল্টো বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম বেশ কিছুদিন ধরে নিম্নমুখী থাকলেও এর কোনো সুফল মিলছে না দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে। বরং বিশ্ববাজারের নিম্নমুখী প্রবণতার বিপরীতে চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম আরও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা সরবরাহ ঘাটতির কারণ দেখালেও আমদানির তথ্য বলছে, দেশে ভোজ্যতেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি প্রাইস ডেটা বা ‘পিং শিট’-এর আগস্ট মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুন-আগস্ট সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের গড় দাম আগের তিন মাসের তুলনায় কমেছে। গত ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে পাম তেলের গড় দাম ছিল টনপ্রতি ১ হাজার ১১৭ ডলার। জুনে ১ হাজার ১০৪ এবং জুলাইয়ে ১ হাজার ১০১ ডলার হওয়ায় জুন-আগস্ট সময়ে গড় দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ১০৭ দশমিক ৩৩ ডলার। এর আগের এপ্রিল-জুন সময়ে গড় দাম ছিল ১ হাজার ১২৮ দশমিক ৬৭ ডলার। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে পাম তেলের গড় দাম কমেছে প্রায় ২১ দশমিক ৩৪ ডলার বা ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

সয়াবিন তেলের দামও একই সময়ে কমেছে। এপ্রিল, মে ও জুনে আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৬৪৩, ১ হাজার ৭৮১ ও ১ হাজার ৭৪০ ডলার। এ সময়ে গড় দাম ছিল ১ হাজার ৭২১ দশমিক ৩৩ ডলার। অন্যদিকে জুন, জুলাই ও আগস্টে দাম ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৭৪০, ১ হাজার ৬৫৮ ও ১ হাজার ৬৩৮ ডলার। ফলে জুন-আগস্ট সময়ে গড় দাম নেমে আসে ১ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৬৭ ডলারে। অর্থাৎ আগের তিন মাসের তুলনায় সয়াবিন তেলের গড় দাম কমেছে প্রায় ৪২ দশমিক ৬৭ ডলার বা ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও খাতুনগঞ্জে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। বর্তমানে সেখানে সয়াবিন তেল প্রতি মণ বা ৩৭ দশমিক ৩২ কেজি প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা, পাম তেল ৬ হাজার ৬০০ টাকা এবং সুপার পাম তেল প্রায় ৬ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেড় মাস আগেও খাতুনগঞ্জে সয়াবিন তেলের দাম ছিল মণপ্রতি প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ৩০০ টাকা বা ৪ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে পাম তেলের দামও মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বেড়েছে।

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে সরবরাহ ঘাটতির কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। খাতুনগঞ্জের সয়াবিন তেল ব্যবসায়ী শাহজালাল বলেন, বাজারে তেলের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম। ডিলাররা চাহিদার তুলনায় কম তেল সরবরাহ করায় দাম বেড়েছে।

পাইকারি বাজারের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০৮ থেকে ২১০ টাকা, পাম তেল ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং সুপার পাম তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চলতি বছর সরকার দুই দফায় সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয় করেছে। গত ২৯ এপ্রিল এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা, পাঁচ লিটারের বোতল ৯৫৫ থেকে ৯৭৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৭৬ থেকে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরে গত ২ সেপ্টেম্বর এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য আরও ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ছাড়াও ডলারের বিনিময় হার, জাহাজভাড়া, বন্দর ও পরিবহন ব্যয়, শুল্ক-কর, ব্যাংকিং খরচ, পরিশোধন ও প্যাকেজিং ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় দেশের বাজারদরে প্রভাব ফেলে।

খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক আলা উদ্দীন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশের পাইকারি দামের তুলনা করতে হলে শুধু টনপ্রতি মূল্য বিবেচনা করলে হবে না। আমদানি থেকে খাতুনগঞ্জ পর্যন্ত পুরো ব্যয় কাঠামো এবং সরবরাহ পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হয়। এছাড়া আগের বেশি দামে আমদানি করা তেল বাজারে থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার পরপরই স্থানীয় বাজারে দাম কমানো সম্ভব হয় না বলেও ব্যবসায়ীরা যুক্তি দিয়েছেন।

তবে আমদানির পরিসংখ্যানে দেশে ভোজ্যতেলের সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের ঘাটতির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এইচএস কোডে মোট ৬৫ হাজার ৯৫৬ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে পাম তেল ৫০ হাজার ৮৯৬ টন বা মোট আমদানির প্রায় ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ এবং সয়াবিন তেল ১৫ হাজার ৬১ টন বা প্রায় ২২ দশমিক ৯ শতাংশ।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন আমদানির তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, কাস্টমস মূলত আমদানিসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করে। বাজারদর নির্ধারণের বিষয়টি সরবরাহ পরিস্থিতি ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন উপাদানের ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে ভোক্তাদের স্বার্থে বাজারে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সামনে রমজান মাস। এর আগে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর কোনো চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুফল ভোক্তারা পাচ্ছেন কি না এবং পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ কী—সেটিও নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page