1. dsdc.mostafiz@gmail.com : mrahman :
  2. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  3. info@www.media71bd.com : Media 71 :
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষঃ
হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণ, চার তেলবাহী জাহাজে আগুন দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কমেছে ১১০৮ টাকা আমের খোসা থেকে চা তৈরি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন তরুণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থানের ৫০ গজ দূরে মোটরসাইকেল ‘দুর্বৃত্ত ছাড়া সবাই নিরাপদ’, চরফ্যাশনে যুব সমাবেশে নূরুল ইসলাম নয়ন ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত অন্তত ২০ শরীফুলের আঘাতে ফিরলেন চন্দরপল, চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ লস অ্যাঞ্জেলেস ফ্যাশন উইকের রানওয়েতে বাংলাদেশের রাকিব এআইয়ের ওপর নির্ভরতা কমাতে শ্রেণিকক্ষে ফিরছে খাতা-কলম, বদলাচ্ছে পাঠদান পদ্ধতি তাহসিফ সাউরী নিখোঁজের ঘটনায় বন্ধু দীপকে হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই

আমের খোসা থেকে চা তৈরি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন তরুণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

হাফিজুর, রাজশাহী রিপোর্টার
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

আমের জন্য বিখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফলটির খোসা ফেলে না দিয়ে তা থেকেই চা তৈরি করছেন তিন তরুণ উদ্যোক্তা। ‘ম্যাংগো পিল টি’ নামের এই চা তৈরি করে ইতোমধ্যে সীমিত পরিসরে বাজারজাতও শুরু করেছেন তারা। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগে একদিকে যেমন আমের অপচয় কমানোর চেষ্টা হচ্ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে নতুন পণ্যের বাজার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার তিন বন্ধু মোহা. মাইনুল ইসলাম, মিঠুন ও মাসুম আলী মিলে গড়ে তুলেছেন ‘সবুজ খাবার’ নামের একটি উদ্যোগ। আমের খোসা থেকে চা তৈরির পাশাপাশি তারা আমের ড্রাই বার, জুস, চকলেট, আমসত্ত্ব, ম্যাংগো লেদার, পাকা আমের সস ও আমের গুঁড়াসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করছেন।

উদ্যোক্তাদের দাবি, আমের খোসা থেকে চা তৈরির এই উদ্যোগ দেশে প্রথম। তাদের তৈরি চায়ে আমের স্বাদ ও ঘ্রাণ পাওয়া যায়। তবে পণ্যটির পুষ্টিগুণ ও বাজারের সম্ভাবনা আরও যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে।

যেভাবে শুরু

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করা মাইনুল ইসলাম একসময় ফ্রিল্যান্সিংয়ে গ্রাফিকস ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতেন। চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ এলাকায় উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

২০২১ সালে আমের দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েন মাইনুল। একদিন বন্ধু মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে গিয়ে দেখেন, কৃষকেরা অবিক্রীত আম ফেলে দিচ্ছেন কিংবা গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন। সেই দৃশ্য থেকেই আম সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করে নতুন পণ্য তৈরির পরিকল্পনা করেন তারা।

প্রথমে সীমিত সামর্থ্য নিয়ে আমসত্ত্ব তৈরির কাজ শুরু করেন। তবে খোলা মাঠে আম শুকানোর সময় ধুলাবালি, পাখির পালক ও অন্যান্য দূষণের ঝুঁকি তাদের সমস্যায় ফেলে। এরপর আম শুকানোর জন্য বিশেষ যন্ত্র তৈরির উদ্যোগ নেন তারা।

মাইনুল জানান, চীনে তৈরি একটি হিটার মেশিনের দাম প্রায় ১১ লাখ টাকা শুনে তারা নিজেরাই যন্ত্রটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। বড় ভাই ও বন্ধু মাসুমকে বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত করে ইন্টারনেটের সহায়তায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে যন্ত্রটি তৈরি করেন। এতে আমদানি করা যন্ত্রের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় হয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তারা।

চলতি বছরের ৯ জুন আম নিয়ে কাজ শুরু করেন তারা। পরে ৭ জুলাই আন্তর্জাতিক মানের থাই পদ্ধতির ড্রাই ম্যাংগো তৈরি করতে সক্ষম হন বলে জানান মাইনুল। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য আমজাত পণ্য উৎপাদন শুরু করেন।

আমের খোসা থেকে যেভাবে তৈরি হয় চা

আম প্রক্রিয়াজাত করার সময় খোসার সঙ্গে আমের একটি অংশও নষ্ট হতে দেখে নতুন ভাবনা আসে বলে জানান উদ্যোক্তা মিঠুন। সেই ভাবনা থেকেই আমের খোসা দিয়ে চা তৈরির পরিকল্পনা করেন তারা।

উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে আম ভালোভাবে ধুয়ে খোসা ছাড়ানো হয়। এরপর বিশেষ প্রক্রিয়ায় খোসা শুকিয়ে কয়েকটি ধাপ পার করে গুঁড়া করা হয়। এভাবেই তৈরি হয় ‘ম্যাংগো পিল টি’।

তাদের হিসাব অনুযায়ী, এক মণ বা ৪০ কেজি আম থেকে প্রায় ১৫ কেজি খোসা পাওয়া যায়। প্রক্রিয়াজাত করার পর তা থেকে প্রায় এক কেজি চা উৎপাদন করা সম্ভব। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে মান ও ধরনভেদে প্রতি কেজি দুই থেকে চার হাজার টাকা দরে চা বিক্রি করছেন তারা।

মিঠুন বলেন, আমের খোসা থেকে চা তৈরির ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং আম গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিনের সহযোগিতা পেয়েছেন তারা। নতুন উদ্যোক্তাদের হতাশ না হয়ে স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু করার পরামর্শও দেন তিনি।

অপর উদ্যোক্তা মাসুম আলী জানান, বিদেশি যন্ত্রের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের মেধা কাজে লাগিয়ে কম খরচে আম শুকানোর যন্ত্র তৈরি করেছেন তারা। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বড় পরিসরে উৎপাদন ও রপ্তানি শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বাজারসংযোগ পেলে ‘ম্যাংগো পিল টি’সহ তাদের অন্যান্য পণ্য দেশের বাজার ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছাতে পারে বলে আশা করছেন তারা।

ক্রেতাদের আগ্রহ ও কৃষকদের প্রত্যাশা

ভোলাহাটের স্থানীয় বাজারে নতুন এই চা নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কেউ প্রথমবারের মতো স্বাদ নিচ্ছেন, আবার কেউ প্রচলিত চায়ের সঙ্গে এর পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় চা-দোকানিদের মধ্যেও পণ্যটি নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

চা দোকানি আব্দুল আলিম জানান, যারা আমের খোসার চা পান করেছেন, তাদের অনেকে আবারও এই চা পান করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়ায় এটি বিক্রি করে তারাও লাভবান হচ্ছেন।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বলেন, তিনি প্রতিদিন অন্তত এক কাপ আমের খোসার চা পান করেন। তার কাছে চায়ের স্বাদে আম খাওয়ার অনুভূতি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা সবিউল ইসলাম সবুও চায়ের ঘ্রাণ ও স্বাদের প্রশংসা করেন।

কানসাটের আমচাষি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কয়েক বছর ধরে আমের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। আম থেকে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হলে আমের চাহিদা ও মূল্য বাড়তে পারে। এতে জেলার অর্থনীতিও উপকৃত হবে বলে আশা করেন তিনি।

ভোলাহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সুলতান আলী বলেন, চাহিদার তুলনায় আমের উৎপাদন বেশি হওয়ায় অনেক সময় চাষিরা ন্যায্য দাম পান না। আমশিল্পকে এগিয়ে নিতে কৃষি বিভাগ আমজাত পণ্য উৎপাদনে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করছে। ভোলাহাটের তিন তরুণ আমের খোসা কাজে লাগিয়ে নতুন পণ্য তৈরির মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. মোমিনুল হক বলেন, স্থানীয় কৃষিপণ্যের উপজাত কাজে লাগিয়ে নতুন পণ্য তৈরি হলে অপচয় কমার পাশাপাশি উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

আমের খোসা থেকে চা তৈরির এই উদ্যোগ স্থানীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে। তবে পণ্যটির মান নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন সক্ষমতা, বাজার সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা গেলে ‘ম্যাংগো পিল টি’ কতটা সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারে, তা সময়ই বলে দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page