
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষার পাঠ্যবইয়ে বেশ কিছু শব্দ ও বিষয়বস্তু পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন বইয়ে ‘পানি’, ‘আব্বা’ ও ‘আম্মি’র পরিবর্তে ‘জল’, ‘বাবা’ ও ‘মা’ শব্দ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যটির সিলেবাস ও কারিকুলাম পর্যালোচনা কমিটি।
কমিটির প্রধান ও কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেবাশীষ চট্টোপাধ্যায় এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলায় দৈনন্দিন কথাবার্তায় সাধারণত ‘জল’, ‘বাবা’ ও ‘মা’ শব্দগুলো বেশি ব্যবহৃত হয়। তাই পাঠ্যবইয়েও এসব শব্দ রাখা হচ্ছে।
নতুন পাঠ্যবইয়ের প্রথম সংস্করণ ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে এবার পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দেবাশীষ চট্টোপাধ্যায়।
তিনি বলেন, আগামী ২ জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দিতে হবে। ছাপাতে হবে ১২ কোটির বেশি বই। তাই এবার সিলেবাসে বড় পরিবর্তনের পরিবর্তে জরুরি কিছু সংশোধন ও পরিমার্জন করা হয়েছে।
ইতিহাসের পাঠ্যেও পরিবর্তন
নতুন পাঠ্যবইয়ে উত্তর প্রদেশের সিনাউলি ও হরিয়ানার রাখিগড়িতে সিন্ধু সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কারের বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। এসব আবিষ্কারকে আর্যদের অভিবাসন নিয়ে প্রচলিত কিছু তত্ত্বের চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরা হবে।
দেবাশীষ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আগে শেখানো হতো, আর্যরা ভারতে সভ্যতা নিয়ে এসেছিল এবং তারাই প্রথম রথ ও ঘোড়ার প্রচলন ঘটায়। তবে সিনাউলি ও রাখিগড়িতে সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য এই তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে কমিটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইতিহাসের বইয়ে মুঘল আমল, ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন এবং মার্ক্সবাদ-সংক্রান্ত অধ্যায়গুলো সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
নতুন বইয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শিবাজী উৎসব’ কবিতা এবং দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘মেবার-পতন’ নাটকের মতো সাহিত্যকর্ম রাখা হচ্ছে। তবে বাদ পড়ছে সিরাজউদ্দৌলা নাটক ও রবীন্দ্রনাথের ‘আফ্রিকা’ কবিতা।
বাদ পড়ছে কন্যাশ্রী ও সিঙ্গুর আন্দোলনের অধ্যায়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন আগের সরকার সিঙ্গুরে ভূমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলন এবং স্কুলছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প নিয়ে ইতিহাসের বইয়ে অধ্যায় যুক্ত করেছিল। নতুন পাঠ্যক্রমে এ দুটি বিষয়ও বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৫ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনছে। তবে তখনো সিলেবাস ও কারিকুলাম পর্যালোচনা কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের হাতে পৌঁছায়নি।
শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, স্কুলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, ‘নো-ডিটেনশন’ নীতি বাতিল এবং ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (এনসিসি) কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়গুলো বিবেচনা করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা এবং পাস-ফেল পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার পক্ষে। পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম ও ব্রতচারী কার্যক্রম স্কুলে ফিরিয়ে আনা উচিত বলেও মত দেন তিনি।