
ইসরায়েলে ইহুদি ও আরব রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে জোট সরকার গঠনের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে তেল আবিব, জেরুজালেমসহ বিভিন্ন শহরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল হওয়ার কথা রয়েছে।
‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ নামের একটি সংগঠন এ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। সংগঠনটির দাবি, আরব ও ইহুদি নাগরিকদের ভোটের মূল্য সমান। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আরব নাগরিকদেরও পূর্ণ অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ার, জেরুজালেমের প্যারিস স্কয়ার, বীরশেবা, হাইফা ও তাইবেতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেও একই দাবিতে ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকটের বাড়ির সামনে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলাফলে কোনো দল বা জোট এককভাবে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন।
ইহুদি দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত বিরোধী জোট ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর চারটি দল হলো গাদি আইজেনকটের ইয়াশার, নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের বি’ইয়াচাদ, ইয়ার গোলানের দ্য ডেমোক্র্যাটস এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু।
অন্যদিকে আরবদের নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম যথাক্রমে ১১ ও ৮টি আসন পেয়েছে। সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭টি। ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন।
নির্বাচনের আগে ইহুদি দলগুলোর কয়েকটি আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটে না যাওয়ার অবস্থান জানিয়েছিল। তবে আরব দলগুলোর প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফলের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। বিক্ষোভের আয়োজকদের দাবি, নির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেওয়া ইহুদি-আরব সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতিফলন নতুন সরকারেও থাকতে হবে।
আয়োজকেরা বলেন, ‘এখন অংশীদারত্ব থেকে সরে যাওয়ার সময় নয়; বরং এটিকে এমন রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়ার সময়, যা বাস্তবতার পরিবর্তন ঘটাতে পারে।’
শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে চেঞ্জ ব্লকের নেতা ও দ্য ডেমোক্র্যাটসের প্রধান ইয়ার গোলান জানান, বৃহস্পতিবার তিনি গাদি আইজেনকট, ইয়ার লাপিদ ও রাআমের প্রধান মানসুর আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সরকার গঠনের বিষয়ে তাঁদের মধ্যে দৃঢ় প্রত্যয় দেখেছেন বলেও জানান তিনি।
তবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন গোলান। তাঁর ভাষায়, এমন সরকার গঠিত হলে তা হবে নেতানিয়াহুর আরেকটি সরকার, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
অন্যদিকে বিরোধী জোটের অংশীদার ইসরায়েল বেইতেনুর নেতা আভিগদর লিবারম্যান এখনো আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করছেন।
আগামী ৪ নভেম্বর ইসরায়েলের নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হবে। এরই মধ্যে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দর-কষাকষি শুরু হয়েছে। নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হবে ১০ নভেম্বর। ওই দিন নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
চেঞ্জ ব্লক পার্লামেন্টের বর্তমান স্পিকার ও লিকুদ পার্টির নেতা আমির ওহানাকে সরিয়ে নতুন স্পিকার নিয়োগ দিতে চায়। গোলান জানিয়েছেন, সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর নতুন স্পিকার নিয়োগ এবং পার্লামেন্টের বিভিন্ন কমিটির প্রধান নির্বাচন হবে তাদের প্রথম কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বারাক সেরির মতে, ওহানাকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ইতিমধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তবে নতুন স্পিকার কে হবেন, তা নিশ্চিত নয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এসেছে।