
মিরপুরের Sher-e-Bangla National Cricket Stadium-এ দুর্দান্ত অলরাউন্ড নৈপুণ্যে অস্ট্রেলিয়াকে ৮৬ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে আসে এই স্মরণীয় জয়। এর মাধ্যমে ওয়ানডে ক্রিকেটে দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেল টাইগাররা।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সাইফ হাসানের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিমের ৯৬ রানের জুটি দলকে শক্ত ভিত এনে দেয়। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তামিম ৪১ বলে ৪৪ রান করেন, আর শান্ত খেলেন ৫৭ বলে ৬৭ রানের দারুণ ইনিংস।
মধ্যভাগে তাওহিদ হৃদয়ের ৩১ রান দলের সংগ্রহ এগিয়ে নেয়। পরে তাসকিন আহমেদের ঝড়ো ২০ রানের ক্যামিও এবং চার বছর পর ওয়ানডেতে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা। সৈকত ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রান করে দলের স্কোর ২৮৪ রানে পৌঁছে দেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান এলিস ৩টি এবং ম্যাট রেনশ ও লিয়াম স্কট ২টি করে উইকেট নেন।
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারের প্রথম বলেই ম্যাট শর্টকে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারেই মার্নাস লাবুশেনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর জশ ইংলিস ও কুপার কনোলির জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা ও মোসাদ্দেক।
বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে ধুঁকতে থাকে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ। ১৪০ রানেই ৮ উইকেট হারায় সফরকারীরা, যা বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের সর্বনিম্ন ওয়ানডে স্কোরের নতুন রেকর্ড। পরে ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রান তুললে বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে ৮৬ রানের জয়ী ঘোষণা করা হয়।
বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন নাহিদ রানা। তিনি ৪১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। এটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা বোলিং ফিগার হিসেবেও নতুন রেকর্ড। এর আগে ২০০৬ সালে আব্দুর রাজ্জাক ৩ উইকেট নিয়েছিলেন।
অন্যদিকে ব্যাট হাতে ৮৬ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ২ উইকেট এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্যাচ নিয়ে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
আগামী বৃহস্পতিবার একই ভেন্যুতে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আবার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া।