
শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সৃজনশীল ও কর্মমুখী করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
রোববার (১৪ জুন) বিকেলে তেজগাঁওয়ের বিএএফ শাহীন কলেজের শাহীন হল মিলনায়তনে আয়োজিত ‘স্টার্ট-আপ সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
মাহদী আমিন বলেন, সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি তাদের মধ্যে নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সুনাগরিকের গুণাবলি বিকশিত হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজস্ব আগ্রহ ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। কেউ স্কাউটিং, কেউ গার্লস গাইড, কেউ খেলাধুলা, আবার কেউ বিতর্ক, আবৃত্তি, কোরআন তেলাওয়াত বা চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বিকাশ করবে—এমন পরিবেশ তৈরি করতে চায় সরকার।
মাহদী আমিন আরও বলেন, রাষ্ট্র শিক্ষার্থীদের পছন্দ অনুযায়ী পেশা ও দক্ষতা অর্জনে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে, যাতে তারা নিজেদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে পারে।
তিনি জানান, একই ধরনের সৃজনশীল কার্যক্রম দেশের ৬৪ জেলাতেই একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা মনোভাবকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে প্রায় ১২ হাজার টিম, ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী এবং ২৪ হাজার শিক্ষক অংশ নিচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিভিন্ন সৃজনশীল ও সহশিক্ষা কার্যক্রম ভবিষ্যতের মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষার্থীদের মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এজন্য পাঠ্যক্রম ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করার ওপর জোর দেন তিনি।