
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারি পদ্ধতিই বহাল রাখা হবে। তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্যান্য সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের মার্চে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন প্রথম শ্রেণিসহ সব শ্রেণিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষা চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে শিশুদের ওপর অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ তৈরি হবে। পাশাপাশি কোচিং ও প্রাইভেটনির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে, যা শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য বৃদ্ধি করতে পারে।
লটারি বাতিলের ঘোষণার পর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির নামে কোচিং কার্যক্রম শুরুর অভিযোগও ওঠে।
একসময় বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার কারণে অল্প বয়সেই শিশুদের কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হতো। কোচিং, অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও ছিল ব্যাপক। ফলে সাধারণ ও নিম্নআয়ের পরিবারের অনেক শিক্ষার্থীর জন্য ভালো বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (যেসব বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি রয়েছে) প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়। ২০১২ সালে বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই নিয়ম কার্যকর হয়।
তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি তখনও পরীক্ষার মাধ্যমেই হতো।
পরবর্তীতে করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম চালু করা হয়, যা পরবর্তী বছরগুলোতেও অব্যাহত ছিল।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি চলবে, আর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্যান্য সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১০ আগস্ট প্রকাশ করা হবে।