
জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে চট্টগ্রামে ডিবি পরিচয়ে আটক, মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দেশের শীর্ষ ক্রিকেটাররা। ঘটনাটিকে ন্যক্কারজনক ও অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৃথক প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা নাঈমের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান।
জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম বলেন, নাঈমের সঙ্গে যা ঘটেছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন নাগরিক ও বাংলাদেশি হিসেবে তিনি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং দ্রুত বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ঘটনাটি তাকে ব্যথিত ও লজ্জিত করেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি ও সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেন, ঘটনার পর নাঈম তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এবং বোর্ডের অন্যান্য পরিচালকরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নাঈম ও তার পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বিসিবির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
পেসার তাসকিন আহমেদ জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস বলেন, নাঈম একজন চমৎকার মানুষ। তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা গভীরভাবে উদ্বেগজনক ও হৃদয়বিদারক। তিনি বলেন, দেশের কোনো নাগরিকই এমন আচরণের শিকার হওয়ার যোগ্য নন, একজন জাতীয় ক্রিকেটার তো নয়ই। তিনি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, নাঈম হাসানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয়, দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক। একজন জাতীয় ক্রিকেটারের সঙ্গে এমন আচরণ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদার ওপর আঘাত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে সাভারের বিকেএসপিতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে বিমানযোগে চট্টগ্রামে ফেরেন নাঈম হাসান। বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার ফ্লাইওভার টোল প্লাজা এলাকায় খুলশী থানা পুলিশের একটি টিম তাকে ডিবি পরিচয়ে আটক করে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নাঈম নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে গালিগালাজ করা হয়, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নাঈমের ভাই সাব্বির হাসান বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশের সোর্স সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে দায়িত্ব পালনে অপেশাদার আচরণের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অভিযুক্ত খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও কনস্টেবল রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। দুই সংগঠনই নাঈম ও তার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে।