দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আবারও ভারতের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে নেপাল। বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হিমালয়ের বিতর্কিত লিপুলেখ পাস, যা ভারত, নেপাল ও চীনের সীমান্ত সংযোগস্থলে অবস্থিত।
নেপালের দাবি, লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি অঞ্চল তাদের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অংশ। দেশটির মতে, ১৮১৬ সালের সুগাউলি চুক্তি অনুযায়ী এসব এলাকা নেপালের অন্তর্ভুক্ত। কাঠমান্ডুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এসব অঞ্চলে ভারতের কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে ভারত ও চীন সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, লিপুলেখ পাস দিয়ে কৈলাস-মানসসরোবর তীর্থযাত্রা পুনরায় চালু করা হবে। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২০ সাল থেকে এই যাত্রা বন্ধ ছিল।
ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও বন ধর্মাবলম্বী তীর্থযাত্রীরা উত্তরাখণ্ড হয়ে লিপুলেখ পাস ব্যবহার করে চীনের তিব্বত অঞ্চলে প্রবেশ করবেন। এছাড়া কিছু তীর্থযাত্রী সিকিম হয়ে বিকল্প রুটও ব্যবহার করবেন।
তবে নেপাল এই সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। দেশটির দাবি, বিতর্কিত ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারত-চীনের সমঝোতা নেপালের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।
অন্যদিকে ভারতের অবস্থান, লিপুলেখ পাস বহু দশক ধরেই তীর্থযাত্রার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভারত দাবি করেছে, ১৯৫৪ সাল থেকে এই রুট দিয়ে কৈলাস-মানসসরোবর যাত্রা পরিচালিত হচ্ছে।
ভারতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, নেপালের ভূখণ্ড দাবি ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও বিদ্যমান তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটিকে একতরফা দাবি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ আবারও সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি ভারত-নেপাল কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে।