
আমি একটা পাহাড় কিনতে চাই
নিলামে উঠেছে সকালের আলো,
পিঠে চড়িয়ে মেঘের বোঝা
দাম দেব তার নদীর জল ছোঁয়া।
বাড়বে দাম—পাখির ডানা,
বনে বনে কুয়াশার ধান,
এক চিলতে ঝরনার গান
আর ছায়ার নিচে ঘাসের খানা।
কিস্তি মেটাবো শৈশব দিয়ে,
যত বৃষ্টি-ভেজা দুপুর ছিল,
হারানো স্বপ্ন, ভাঙা থলি,
মুখর রোদের সোনালি ধূলি।
পাহাড় বলবে—তোমার কেন?
আমি চিরকাল অচেনা পাথর,
তোমার নামের ঠিকানা নেই,
তোমার ভালোবাসা বাতাসের মতো চোর।
তাই বলে কি হাত গুটাই?
চাঁদ জামিন দেবে রাতে,
তারা সই করবে নিঃশব্দে,
ঢালু গায়ে মাটির হাতে।
এক টুকরো নীল কিনব না
কখনও সেটা বিকায় না,
আমি কিনব সবুজের ঠিকানা,
পায়ের তলায় স্বপ্নের মানচিত্র খানা।
ঘরে ফিরলে পাহাড় থাকবে না,
থাকবে কেবল তার নিঃশ্বাস,
আমায় নিতে রাজি নাকো সে,
তবু আমি দেব সবটুকু উচ্ছ্বাস।
সুতরাং আমি পাহাড় কিনে ফেললাম,
মুল্য দিয়েছি নিজের অস্তিত্ব,
দরপত্রে জিতেছে উদাস বাতাস,
পাহাড় এখন আমার মতো নিত্য অসীম দুর্বিষহ—
আর মৃত্যুহীন।