
ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) কাতার, বাহরাইন, জর্ডান এবং সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় এসব হামলার দাবি করেছে দেশটির ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, কাতারের রাজধানী দোহার কাছে অবস্থিত আল-উদেইদ মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পড়ে এক শিশুসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, হামলায় মার্কিন ঘাঁটির একটি জেট রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ও কমান্ড সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কাতার বা যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
এদিকে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার দাবিও করেছে ইরান। হামলার আশঙ্কায় দেশটিতে দ্বিতীয়বারের মতো সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়।
জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর লক্ষ্যেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এবং স্বাধীনভাবে দাবিগুলো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরান বলেছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় তাদের সেনা নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে ওই অঞ্চল দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার খবর প্রকাশ করে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় বন্দর আব্বাস ও শিরাজের সংযোগকারী কাহুরেস্তান সেতুসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত সাতজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন। তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।