
জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। এবার মাঠে নেমে নিজের আনুষ্ঠানিক বিদায়টাও স্মরণীয় করে রাখলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বুধবার (৭ অক্টোবর) বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। ৩-০ গোলের জয়ে আর্জেন্টিনার উৎসবও পূর্ণতা পেয়েছে।
এস্তাদিও মনুমেন্টালে মেসির বিদায়কে ঘিরে সাজানো হয়েছিল বিশেষ আয়োজন। ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও বিরতির পর আর্জেন্টিনার তিন গোলেই প্রত্যক্ষভাবে অবদান রাখেন অধিনায়ক মেসি।
দ্বিতীয়ার্ধের ৪৮ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে পাওয়া বলে ভলিতে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। বিদায়ী ম্যাচ খেলতে নামা ওতামেন্দিকে গোলের পরপরই মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
৬১ মিনিটে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলেও অবদান রাখেন মেসি। বাঁ দিক থেকে তার বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণ করে বাঁকানো শটে জালে পাঠান নিকো পাজ।
এরপর ম্যাচের শেষ গোলটি আসে মেসির পা থেকে। অগাস্তিন গিয়াই বেনিনের বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। ৭১ মিনিটে স্পট কিক থেকে শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠান মেসি। গোলের পর সতীর্থদের সঙ্গে বৃত্তাকারে দাঁড়িয়ে উদযাপনে মাতেন তিনি।
প্রথমার্ধেও আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি চারটি শট নেন মেসি। গোলের সুযোগ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে শারীরিক ভারসাম্য হারানোয় কাঙ্ক্ষিত ফিনিশিং করতে পারেননি।
২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক হয় মেসির। ২০০৬ সালের ১ মার্চ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নিজের ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথম গোলের দেখা পান তিনি। একই বছর বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টেনিগ্রোর বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপেও নিজের নামের পাশে প্রথম গোল যোগ করেন।
২০২৬ বিশ্বকাপ দিয়ে তার বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ হওয়ার আগে বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২১টি।
আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৮তম ম্যাচ খেলেই জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন মেসি। তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে রয়েছে ১২৬ গোল ও ৬৯টি অ্যাসিস্ট।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসি জিতেছেন চারটি বড় শিরোপা—২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা।
অসংখ্য রেকর্ড, চারটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা এবং বিশ্বজুড়ে কোটি সমর্থকের ভালোবাসা নিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ২১ বছরের পথচলার ইতি টানলেন লিওনেল মেসি।