
সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ জন ও আহত ১২ জনের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মোট ৯৭ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২৭ পরিবারের সদস্যদের হাতে এসব চেক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ। এতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাশেম।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, বাংলাদেশে জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যাও বেশি। দুর্ঘটনা কমাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। একটি জীবনহানির ক্ষতি কোনো অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি দুর্ঘটনায় মারা গেলে বা পঙ্গু হয়ে গেলে পরিবারটি যে দুরবস্থার মধ্যে পড়ে, তা কেবল ওই পরিবারের সদস্যরাই অনুভব করতে পারেন।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত পরিবারের পাশে দাঁড়াতেই সরকার ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেছে। সরকারের দেওয়া অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করে অভিভাবক হারানো পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করতে হবে। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে চালক ও পথচারী—উভয়কেই সচেতন হতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জামির হোসেন, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আবুল কালাম বাবলা এবং সাতক্ষীরা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রউফ।
এ সময় বিআরটিএ সাতক্ষীরা কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মো. ওমর ফারুক, মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. ওবায়দুর রহমান, উচ্চমান সহকারী নাসিরউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিআরটিএর ট্রাস্টি বোর্ডের সহায়তায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ জনের পরিবারের সদস্যদের প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়া হয়। চেক গ্রহণ করেন রমেশ চন্দ্র মৃধা, সুমাইয়া পারভীন, সাঈদ আলী, জি এম শাহানুর রহমান, মো. ওজিয়ার রহমান গাজী, রিজাউল ইসলাম মিঠু, কামরুন্নাহার, সুকজান খাতুন, এম এস টি এলিজা আক্তার, মমতাজ পারভীন, চপলা কর্মকার, সুপ্রিয়া রানী খাঁ, মো. আব্দুস ছালাম, তাপিয়া সুলতানা ও আব্দুস ছালাম।
এ ছাড়া দুর্ঘটনায় আহত সাতজনের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে এবং আরও পাঁচজনকে তিন লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়া হয়।
এক লাখ টাকা করে পাওয়া আহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজু পাড়, মো. কবির উদ্দিন বিশ্বাস, মো. জামাল উদ্দিন, মকছেদ সানা, আবুল হোসেন সানা, মো. মঈনুর ইসলাম ও মো. মফিজুল ইসলাম।
অন্যদিকে তিন লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের চেক পেয়েছেন মো. জনাব আলী, মিতা দাশ, বিউটি খাতুন, মো. সাহাদাত গাজী ও সামিম।
সরকারের এ উদ্যোগকে দুর্ঘটনাকবলিত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি পুনর্বাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।