
ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউ শহরের আলিগঞ্জ এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (২২ জুন) উষা মেহতা মার্গের একটি তিনতলা ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে থাকে। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এবং ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ভেতরে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ভবনের দোতলা থেকে নিচে লাফ দেন। ভবনটির প্রথম তলায় কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি একটি পোষা প্রাণীর দোকানসহ আরও কয়েকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ছিল।
উদ্ধারকারীরা আশঙ্কা করছেন, ভবনের ভেতরে এখনও কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পরও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উত্তর প্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জানান, ভবনের ভেতরে আরও কিছু শিক্ষার্থী অবস্থান করছে— এমন তথ্য পাওয়ার পর উদ্ধারকারী দল কক্ষ ধরে ধরে তল্লাশি চালাচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে প্রতিটি কক্ষ ও সম্ভাব্য আটকে পড়ার স্থান খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উদ্ধার কার্যক্রম আরও সহজ করতে পাশের একটি ভবনের মাধ্যমে স্ট্রেচার ভেতরে নেওয়া হয়। এছাড়া দ্রুত আহত ও নিহতদের সরিয়ে নিতে দেয়ালে একটি ছিদ্রও তৈরি করেন উদ্ধারকর্মীরা।
কর্মকর্তাদের ধারণা, এখনও ৪ থেকে ৫ জন ভবনের ভেতরে আটকা থাকতে পারেন। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।