গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় পারিবারিক সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ঝাড়-ফুঁকের নামে এক নারীকে অচেতন করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ইমাম আব্দুল হাদী (৫০) দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও কবিরাজ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের কথা বলে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। এ সময় চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁকের নামে ধাপে ধাপে তার কাছ থেকে মোট ৮১ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২৮ মার্চ সকালে ভবানীপুর এলাকার ওই ইমামের ডাকে তার বাড়িতে গেলে তাকে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে ঝাড়-ফুঁকের অংশ হিসেবে একটি ওষুধসদৃশ বস্তু খেতে দেওয়া হয়। সেটি সেবনের পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরলে তিনি বুঝতে পারেন, তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার পর তিনি প্রতিবাদ করলে তাকে এবং তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। মেয়ের সংসার ভেঙে দেওয়া ও কালো জাদুর ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন তাকে মানসিক চাপে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযোগ দায়েরের পরও তদন্ত কার্যক্রম দৃশ্যমানভাবে শুরু হয়নি এবং কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অভিযোগ তুলে নিতে চাপ ও হুমকি দিচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কবিরাজি ও ধর্মীয় পরিচয়ে কাজ করতেন। বিতর্কের কারণে একসময় তাকে স্থানীয় একটি মসজিদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি পাশের গ্রামের একটি মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ইমামের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
জয়দেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন রঞ্জন তালুকদার জানান, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী ও তার পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।