
প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দুই দল। বর্তমান র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে মাঠে নামলেও সাম্প্রতিক ফর্ম, পরিসংখ্যান এবং অতীতের কিছু রেকর্ড স্পেনকে কিছুটা এগিয়ে রাখছে।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই শিরোপাজয়ী দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলার এবারও ফাইনালে খেলতে যাচ্ছেন। ফলে বড় মঞ্চে সফল হওয়ার অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনার অন্যতম শক্তি। তবে এবার তাদের সামনে অপেক্ষা করছে বর্তমান সময়ের অন্যতম শক্তিশালী দল স্পেন।
স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের ভারসাম্যপূর্ণ মিডফিল্ড। অধিনায়ক রদ্রি এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বল স্পর্শ, সফল পাস এবং বল বহনের রেকর্ড গড়েছেন। পাশাপাশি তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২টি সফল ট্যাকল করেছেন এবং প্রতিপক্ষের ফাইনাল থার্ডে ১৮৭টি পাস ভেঙে দিয়েছেন, যা স্পেনের ফাইনালে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এছাড়া ফাইনাল থার্ডে সবচেয়ে বেশি পাস দেওয়ার তালিকায়ও রয়েছেন রদ্রি। তার সঙ্গে রয়েছেন ফ্যাবিয়ান রুইজ, যিনি সিনিয়র ক্যারিয়ারে এখনও অপরাজিত থাকার নজির ধরে রেখেছেন। বেঞ্চ থেকে নেমে ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে মিকেল মেরিনোরও।
রক্ষণভাগেও স্পেন বেশ আত্মবিশ্বাসী। এক বিশ্বকাপে ছয়টি ক্লিনশিটের রেকর্ড রয়েছে তাদের। এছাড়া দীর্ঘ সময় গোল না খাওয়ার কীর্তিও গড়েছেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। তাই স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙা আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ডদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে আরেকটি পরিসংখ্যানগত বাধা। ১৯৯২ সালে ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো শীর্ষ র্যাঙ্কিংধারী দল বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। ১৯৯৮ সালে ব্রাজিল শীর্ষে থেকে ফাইনালে উঠলেও রানারআপ হয়েছিল।
এছাড়া টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়েও অতীতে চারটি দল ব্যর্থ হয়েছে। ফলে শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি এই ইতিহাসও বদলানোর চ্যালেঞ্জ থাকবে আর্জেন্টিনার সামনে।
সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতা ও শিরোপা ধরে রাখার প্রেরণা নিয়ে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা, আর দুর্দান্ত ফর্ম, শক্তিশালী মিডফিল্ড ও সংগঠিত রক্ষণকে পুঁজি করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখবে স্পেন। ফুটবল বিশ্বের দৃষ্টি এখন এই মহারণের দিকেই।