চান্দিনা উপজেলা-এর বিভিন্ন গ্রামে বোরো মৌসুমে ধান পেকে গেলেও তীব্র শ্রমিক সংকটে সময়মতো ফসল কাটতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে মাঠেই ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
কৃষকদের অভিযোগ, আগে যেখানে দৈনিক ৫০০–৭০০ টাকায় শ্রমিক পাওয়া যেত, এখন সেখানে ১০০০–১২০০ টাকা মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও দৈনিক মজুরি ৭০০–৯০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। স্থানীয় শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি বাইরের শ্রমিকও কম আসছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি সুহিলপুর ইউনিয়ন-এর অলিপুর গ্রামে ভাড়াটে শ্রমিকের হাতে জমির মালিকের স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনার পর অনেক কৃষক বাইরের শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলেও স্থানীয়রা জানান।
এছাড়া এতবারপুর, মাইজখার, বাড়েরা ও মহিচাইল এলাকার কৃষকরা বলছেন, কয়েকদিনের ঝড়-তুফানের কারণে একসঙ্গে অনেক জমির ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
মাইজখার গ্রামের কৃষক মোস্তফা কামাল বলেন, শ্রমিক না পেয়ে তিনি ৪২ শতক জমির ধান নিজেই কেটে ফেলেছেন। তার মতে, শ্রমিকের মজুরি এত বেশি যে তা বর্তমান সময়ে বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পানিপাড়া গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান জানান, ধানের বাজারমূল্যের সঙ্গে শ্রমিক খরচ প্রায় সমান হয়ে গেছে। ফলে অনেকেই নিজেরা বা পরিবার নিয়ে ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন।
তিতপুর গ্রামের কৃষক ইমরান হোসেন বলেন, একসঙ্গে ধান পেকে যাওয়ায় সবাই একসাথে শ্রমিক খুঁজছেন, কিন্তু পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় সংকট তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে মুহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, এবার চান্দিনায় বোরো আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি, প্রায় ১১ হাজার ১৬৮ হেক্টর জমিতে। তিনি বলেন, কৃষকদের সহায়তায় ২টি ধান কাটার হারভেস্টার মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তবে এগুলো এখনো পৌঁছায়নি। দ্রুতই এই সংকট সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।