
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনী রানী। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে স্থানীয়রা গ্রামের একটি ভুট্টাখেতে সন্দেহজনকভাবে ভাঙা গাছ ও একটি গর্ত দেখতে পান। পরে সেখানে খোঁজ করে বস্তাবন্দী অবস্থায় মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশুটি স্থানীয় ব্র্যাক পরিচালিত প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র বর্মণ (২৩)-কে আটক করে। তিনি একই গ্রামের ধনঞ্জয় বর্মণের ছেলে।
নিহত শিশুর পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে শিশুটির মৃত্যু শ্বাসরোধে হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তিনটি ঘর ও আসবাবপত্রে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
সংঘর্ষে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকসহ অন্তত ১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের গাড়িসহ ছয়টি সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আহতদের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হককে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা ও সরকারি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহত শিশুর বাবা নলিনী চন্দ্র বর্মণ বলেন, তার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ নেই এবং তিনি একজন সাধারণ কৃষক। তিনি অভিযোগ করেন, মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর রাতেই থানায় গেলে পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি।
অন্যদিকে, শিশুটির মা সাবিত্রী রানী বলেন, তার মেয়ে বিকেলে খেলতে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। পরে তাকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।