দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতজনিত প্রাণহানির ঘটনা আবারও উদ্বেগজনকভাবে সামনে এসেছে। বুধবার (৬ মে) দিনভর পৃথক ঘটনায় অন্তত ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের অধিকাংশই মাঠে কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিলেন।
নাটোর (লালপুর):
লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওসারা সুলতানপুর চরে বজ্রপাতে কৃষক আজিজ মণ্ডল (৫০) মারা যান। বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে পদ্মা নদীর চরে ফসলের জমিতে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নওগাঁ:
নওগাঁর নিয়ামতপুর ও মহাদেবপুর উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। মহাদেবপুর উপজেলার কুড়াপাড়া গ্রামে ধান কাটার সময় কৃষক দিলিপ চন্দ্র বর্মণ বজ্রপাতে আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে নিয়ামতপুর উপজেলার রামনগর গ্রামে অনুকূল চন্দ্র মাহন্ত ধান বহন করার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই উপজেলার খোদ্দচাম্পা গ্রামে ধান কাটার সময় অজ্ঞাতনামা এক শ্রমিকও বজ্রপাতে নিহত হন। তার পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
ময়মনসিংহ:
নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামে বোরো ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আব্দুর রশিদ (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে বৃষ্টি শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাতের আঘাতে তিনি মাঠেই লুটিয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লালমনিরহাট:
কালীগঞ্জ উপজেলার ভুল্যারহাট এলাকায় ভুট্টাক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ইউসুফ আলী (৪০) নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কুড়িগ্রাম:
নাগেশ্বরী উপজেলার বদিজামালপুর গ্রামে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ওবাইদুল ইসলাম নামের এক কৃষক মারা যান। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
জামালপুর:
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার নাজিরপুর এলাকায় ভুট্টাক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে সোহেল মিয়া (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি মাঠেই মারা যান। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি বিকেলে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও আর ফিরে আসেননি।
সতর্কতা প্রয়োজন:
প্রতিবছরের মতো এবারও বজ্রপাত মৌসুমে কৃষকদের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে খোলা মাঠে অবস্থান না করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া জরুরি। সচেতনতা বাড়ানো এবং আগাম সতর্কবার্তা কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়