বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের মধ্যে সৃষ্ট টানাপোড়েন কাটিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী ভারত। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হলে সে অনুযায়ী আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
নয়াদিল্লিতে সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি এ কথা জানান। তিনি তিস্তার পানিবণ্টন, গঙ্গা চুক্তির নবায়ন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবাসন, ভিসা ব্যবস্থা, আঞ্চলিক রাজনীতি ও অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেন।
বিক্রম মিশ্রি বলেন, পারস্পরিক মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চায় দিল্লি। ঢাকার সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, বাংলাদেশের অগ্রাধিকার অনুযায়ীই ভবিষ্যৎ আলোচনার দিক নির্ধারিত হবে। দুই দেশের জনগণের কল্যাণে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যোগাযোগ কিছুটা ধীর হলেও সংলাপ অব্যাহত রাখার চেষ্টা ছিল। ২০২৪ সালে তার ঢাকা সফর এবং ২০২৫ সালে ব্যাংককে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-এর সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র বৈঠকের বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি। নবনির্বাচিত সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গেও ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে বলে জানান।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ভিসা সহজীকরণ এবং সেপা (CEPA) চুক্তির মতো বিষয়েও দুই দেশ আগ্রহী বলে উল্লেখ করেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব।
বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারতের হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করে বিক্রম মিশ্রি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের সব সরকারের সঙ্গেই কাজ করেছে ভারত এবং ভবিষ্যতেও যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, তাদের সঙ্গেই কাজ চালিয়ে যাবে।
তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির অচলাবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে এবং পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে যৌথ নদী কমিশন ও কারিগরি কমিটির মাধ্যমে আলোচনা চলমান থাকবে। গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির নবায়নও একই প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে বলে জানান তিনি। প্রায় তিন দশক আগে স্বাক্ষরিত এ চুক্তিকে এখনও কার্যকর বলেও উল্লেখ করেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়