
ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ ও সর্বজনীন করতে আগামী ১ জুলাই থেকে দেশের সব পর্যায়ে বাংলা কিউআর (Bangla QR) বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর Mostakur Rahman।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর Osmani Memorial Auditorium-এ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
গভর্নর বলেন, “আগামী ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এমনকি ফুটপাতের ব্যবসায়ীদেরও এটি ব্যবহার করতে হবে।” তিনি জানান, নগদবিহীন লেনদেন সম্প্রসারণ এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন গভর্নর। তিনি বলেন, যারা দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে বর্তমানে ১০টি সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
“অনেক দেশে পাচারকারীদের সম্পদ জব্দ বা ফ্রিজ করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন দেশে সম্পত্তি স্থানান্তরের চেষ্টা করছে, কিন্তু আমরা তাদের পিছু ছাড়ব না,” বলেন তিনি।
জ্বালানি খাতের প্রসঙ্গ টেনে গভর্নর বলেন, গত ১৭ বছরে সমুদ্রসীমা অর্জনের সাফল্য থাকলেও সম্ভাব্য গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে পর্যাপ্ত অনুসন্ধান করা হয়নি। ফলে দেশ দীর্ঘ সময় ধরে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান BAPEX-কে আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বিদেশি সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্বারোপ করে গভর্নর বলেন, সৌরশক্তি খাতে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, Strait of Hormuz-এ অস্থিরতার কারণে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে আড়াই বিলিয়ন ডলারের তেল ক্রয় করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন গভর্নর। তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ খাত দীর্ঘদিন ধরে হিসাববিহীনভাবে পরিচালিত হয়েছে। ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু আয়ের উৎস তৈরি হয়নি। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পেমেন্টের চাপ ছিল।”
তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে টেকসই ও আর্থিকভাবে সক্ষম করতে সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।