পবিত্র ইসলাম ধর্ম পৃথিবীতে এসেছে একমাত্র মহান আল্লাহর ইবাদত প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য— এমন বার্তাই উঠে এসেছে মসজিদে নববিতে প্রদত্ত জুমার খুতবায়। খুতবায় বলা হয়, আল্লাহর হক, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হক এবং মানুষের পারস্পরিক অধিকার যথাযথভাবে আদায় করাই ইসলামের মূল শিক্ষা।
খুতবায় পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াত উদ্ধৃত করে বলা হয়, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্যের মাধ্যমেই একজন মুমিন সত্যিকার সফলতা অর্জন করতে পারে। সুরা নিসার ৬৯ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে বলা হয়, যারা আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য করবে তারা নবী, সত্যনিষ্ঠ, শহীদ ও সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গ লাভ করবে।
এতে আরও বলা হয়, ইসলাম মানুষকে পারস্পরিক সদাচরণ ও মানবিক আচরণের শিক্ষা দেয়। পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, প্রতিবেশী ও মুসাফিরদের প্রতি সদ্ব্যবহারকে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে অহংকার ও দাম্ভিকতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
খুতবায় নিরাপত্তা ও শান্তিকে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, পূর্ণ ঈমান ও অন্যায়ের পথ থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে মানুষ প্রকৃত নিরাপত্তা লাভ করতে পারে। সুরা আনআমের ৮২ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে বলা হয়, যারা ঈমানকে জুলুম দ্বারা কলুষিত করে না, নিরাপত্তা তাদের জন্যই নির্ধারিত।
এতে আরও বলা হয়, সমাজে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হলে ধর্মীয় কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও সভ্যতার উন্নয়ন সহজ হয়। মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান নিরাপদ থাকে এবং সামগ্রিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতা সমাজে অস্থিরতা ও অকল্যাণ ডেকে আনে।
খুতবায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি হাদিস উল্লেখ করে বলা হয়, ইসলাম এমনভাবে পূর্ণতা লাভ করবে যে একজন ভ্রমণকারী দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেও আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করবে না। সাহাবি আদী ইবন হাতিম (রা.)-এর বর্ণনায় ইসলামের প্রথম যুগে প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তার বাস্তব উদাহরণও তুলে ধরা হয়।
ইবাদত পালনের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। নামাজ, জাকাত ও হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া সঠিকভাবে আদায় সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে পবিত্র কাবাঘরকে নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়।
খুতবায় আরও বলা হয়, নিরাপত্তা ও শান্তি আল্লাহর বড় নিয়ামত। এজন্য সবসময় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় এবং গুনাহ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আল্লাহ নিয়ামত বৃদ্ধি করেন এবং অকৃতজ্ঞতার পরিণতি কঠিন হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।
মুসলমানদের উদ্দেশ্যে খুতবায় বলা হয়, জীবন, স্বাস্থ্য ও অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে বেশি বেশি সৎকর্ম ও ইবাদত করতে হবে। মহানবী (সা.)-এর হাদিস উদ্ধৃত করে বলা হয়, অনেক মানুষ স্বাস্থ্য ও অবসরের মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামতের যথাযথ মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়।
খুতবার শেষাংশে শান্তি, নিরাপত্তা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সবাইকে ঈমান, ইবাদত ও নেক আমলের পথে অটল থাকার আহ্বান জানানো হয়।
(২১-১১-১৪৪৭ হিজরি মোতাবেক ০৮ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে মসজিদে নববি-তে প্রদত্ত জুমার খুতবার সংক্ষেপিত অনুবাদ থেকে প্রস্তুত)
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়