1. adm3ijmpg@example.com : adm3ijmpg :
  2. admiztuem@example.com : admiztuem :
  3. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  4. info@www.media71bd.com : TV :
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন

দাম্পত্য সম্পর্কে বিচ্ছেদ বাড়ছে কেন: ইসলামের আলোকে করণীয়

ইসলামিক ডেস্ক
  • Update Time : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

বিয়ে মানুষের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র বন্ধন। দুইজন মানুষ ভালোবাসা, বিশ্বাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে একসঙ্গে পথচলার অঙ্গীকার করে। সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে একটি সুন্দর সংসার গড়ে তোলাই হয় তাদের লক্ষ্য। তবে বাস্তবতায় দেখা যায়, অনেক সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে ভেঙে যায়। দাম্পত্য কলহ, ভুল বোঝাবুঝি ও মানসিক দূরত্বের কারণে বাড়ছে বিচ্ছেদের ঘটনা। প্রশ্ন হচ্ছে—কেন এই বিচ্ছেদপ্রবণতা বাড়ছে এবং এর সমাধান কী?

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, ধৈর্যের অভাব, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ কমে যাওয়া এবং ধর্মীয় অনুশাসন থেকে দূরে সরে যাওয়াই বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ। স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতা, সন্দেহপ্রবণতা, অহংকার, পরস্পরকে সময় না দেওয়া এবং পরিবারে দায়িত্ববোধের ঘাটতিও সম্পর্ক ভাঙনের দিকে নিয়ে যায়।

ইসলামে দাম্পত্য জীবনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পারিবারিক বন্ধন রক্ষায় ধৈর্য, সহনশীলতা ও ক্ষমাশীলতার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া তালাককে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। হাদিসে এসেছে, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় বৈধ কাজ হলো তালাক।

দাম্পত্য জীবনে মতের অমিল বা মনোমালিন্য থাকতেই পারে। তবে সমস্যা দেখা দিলে তা সমাধানের চেষ্টা করা ইসলামের নির্দেশনা। পারস্পরিক আলোচনা, ধৈর্য এবং ছাড় দেওয়ার মানসিকতা সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো সমস্যা বড় আকার ধারণ করলে উভয় পরিবারের মধ্যস্থতায় সমাধানের চেষ্টা করার কথাও কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে সালিশ নিযুক্ত করে মীমাংসার চেষ্টা করতে হবে। আন্তরিকভাবে সমাধান চাইলে আল্লাহ তাদের মধ্যে শান্তি ও সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টি করবেন।

দাম্পত্য জীবন সুন্দর রাখতে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের দায়িত্ব রয়েছে। তবে সংসারের নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীলতা ইসলামে পুরুষের ওপর অর্পিত হয়েছে। একজন স্বামীর উচিত স্ত্রীর সঙ্গে সদাচরণ করা, তার কষ্ট ও অনুভূতির মূল্য দেওয়া এবং সংসারের কাজে সহযোগিতা করা। একইভাবে স্ত্রীরও উচিত স্বামীর প্রতি সম্মান, সহযোগিতা ও আন্তরিকতা বজায় রাখা।

প্রিয়নবী Muhammad ছিলেন দাম্পত্য জীবনের সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচরণ করতেন, তাদের প্রশংসা করতেন এবং সংসারের কাজেও সহযোগিতা করতেন। তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে পারিবারিক জীবনে ভালোবাসা, নম্রতা ও পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একে অপরের দোষ প্রচার না করে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহমর্মিতার মাধ্যমে সম্পর্ককে শক্তিশালী করা জরুরি। পরিবারে শান্তি বজায় রাখতে রাগ, অহংকার ও সন্দেহ পরিহার করতে হবে।

সুন্দর দাম্পত্য জীবন গড়ে তুলতে প্রয়োজন পারস্পরিক বিশ্বাস, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা। ইসলামের শিক্ষা অনুসরণ করলে পরিবারে শান্তি, স্থিতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা সম্ভব।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!