1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৫:০২ অপরাহ্ন

জুমার নামাজের গুরুত্ব, ফজিলত ও করণীয় আমল

ইসলামিক ডেস্ক
  • Update Time : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

ইসলামে জুমার নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। জুমার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন বা ‘সাপ্তাহিক ঈদ’ বলা হয়। পবিত্র আল-কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সুরা (৬২ নম্বর সুরা) রয়েছে, যেখানে জুমার নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
“হে বিশ্বাসীরা! জুমার দিন যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ত্বরান্বিত হও এবং কেনাবেচা বন্ধ রাখো। এটি তোমাদের জন্য উত্তম—যদি তোমরা বুঝতে পারো।” (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)

জুমার নামাজের প্রধান ফজিলত

১. সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনই সপ্তাহের সেরা দিন। এই দিনেই হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং কিয়ামতও এই দিনেই সংঘটিত হবে। (সহীহ মুসলিম)

২. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত
জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায় তা কবুল করা হয়। অনেক আলেমের মতে, এটি আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত বা দুই খুতবার মধ্যবর্তী সময়। (সহীহ বুখারী)

৩. প্রতিটি কদমে সওয়াব
যে ব্যক্তি গোসল করে আগে আগে মসজিদে যায়, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনে—তার প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য এক বছর নফল রোজা ও এক বছর নফল নামাজের সওয়াব দেওয়া হয়। (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

৪. সুরা কাহাফ তিলাওয়াতের ফজিলত
জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করলে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত বিশেষ নূর লাভ হয় এবং দাজ্জালের ফিতনা থেকে হেফাজত পাওয়া যায়। (নাসায়ী)

৫. গুনাহ মাফ
যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অজু করে, জুমার নামাজে উপস্থিত হয়, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে এবং নীরব থাকে—তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহ মাফ করা হয়। (সহীহ মুসলিম)

৬. ফেরেশতাদের তালিকাভুক্তি
জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা আগত মুসল্লিদের নাম লিখে রাখেন। আগে আসার ভিত্তিতে বেশি সওয়াব দেওয়া হয়। ইমাম খুতবা শুরু করলে তারা তালিকা বন্ধ করে খুতবা শোনায় মনোনিবেশ করেন। (সহীহ বুখারী)

৭. কিয়ামতের দিন বিশেষ মর্যাদা
জুমার নামাজ আদায়কারীদের জন্য কিয়ামতের দিন বিশেষ নূরের ব্যবস্থা থাকবে।

জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল (সুন্নত)

  • গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করা
  • পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা
  • সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করা
  • আগে আগে মসজিদে যাওয়া
  • মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা (খুতবার সময় কথা বলা থেকে বিরত থাকা)
  • বেশি বেশি দরুদ শরীফ পাঠ করা

সতর্কতা

জুমার নামাজ অবহেলা করার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি অলসতার কারণে টানা তিন জুমা ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেন। (আবু দাউদ)

সবশেষে বলা যায়, জুমার নামাজ শুধু একটি ফরজ ইবাদত নয়—বরং এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য সাপ্তাহিক আত্মশুদ্ধি, ঐক্য ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!