হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য জীবনে অন্তত একবার এটি পালন করা ফরজ। এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত সঠিকভাবে আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম ও ধাপ জানা অত্যন্ত জরুরি।
নিচে সংক্ষেপে হজের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে মূল কার্যক্রমগুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো—
একই সফরে আলাদা ইহরামে উমরাহ ও হজ পালনকে হজে তামাত্তু বলা হয়। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অধিকাংশ হাজি এই পদ্ধতিই অনুসরণ করেন।
মিকাত বা তার আগে ইহরাম পরিধান করতে হয়। অনেকেই বাংলাদেশ থেকেই ইহরাম পরে যাত্রা করেন।
মক্কায় পৌঁছে বিশ্রাম নিয়ে অজু করে কাবার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হয়।
Kaaba শরিফকে কেন্দ্র করে সাতবার প্রদক্ষিণ করতে হয়। সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ বা ইশারা করা সুন্নত।
পুরুষদের জন্য তাওয়াফের সময় দ্রুত হাঁটা (রমল) এবং ডান কাঁধ খোলা রেখে চাদর জড়ানো (ইজতিবা) সুন্নত।
Safa and Marwah-এর মাঝে সাতবার সাঈ করতে হয়, সাফা থেকে শুরু করে মারওয়ায় শেষ করতে হয়।
মাথা মুণ্ডন (হলক) অথবা চুল ছোট করা (কসর)। এর মাধ্যমে উমরাহর ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়া যায়।
ইহরাম বেঁধে মক্কা থেকে মিনায় গমন। সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়।
Arafat ময়দানে অবস্থান—হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জোহর ও আসর একত্রে আদায় এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া-ইবাদত।
এরপর Muzdalifah-এ গিয়ে মাগরিব ও এশা একত্রে আদায়।
মিনায় ফিরে বড় শয়তানকে (জামরাতে আকাবা) ৭টি পাথর নিক্ষেপ।
এরপর কোরবানি, মাথা মুণ্ডন/চুল কাটা এবং তাওয়াফে জিয়ারত।
তিনটি জামরায় (শয়তানের স্তম্ভ) প্রতিটিতে ৭টি করে মোট ২১টি পাথর নিক্ষেপ।
পুনরায় তিন জামরায় ২১টি পাথর নিক্ষেপ। এরপর হজের প্রধান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
হজ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও ঐক্যের এক অনন্য শিক্ষা। সঠিক জ্ঞান ও প্রস্তুতি নিয়ে হজ পালন করলে এই মহান ইবাদতের পূর্ণতা অর্জন সম্ভব।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়