ভারত প্রথমবারের মতো ১১টি বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশকে নিয়ে বড় পরিসরের একটি যৌথ সামরিক মহড়ার আয়োজন করতে যাচ্ছে। তবে এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম না থাকায় বিষয়টি কূটনৈতিক মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
আগামী ১৮ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য Meghalaya-এ অনুষ্ঠিত হবে এই মহড়া, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রগতি’। বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে মহড়া আয়োজন করায় এর কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
অংশগ্রহণকারী দেশসমূহ
এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে— নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া এবং সেশেলস।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর জনতথ্য বিভাগ Indian Army-এর এডিজি পিআই এক্স (সাবেক টুইটার)-এ জানিয়েছে, মহড়ার মূল লক্ষ্য বিদ্রোহ দমন ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান জোরদার করা। এ ক্ষেত্রে যৌথ প্রশিক্ষণ ও প্রতিরক্ষা কূটনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সেনাবাহিনী আরও জানায়, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যৌথ সামরিক অভিযানের সক্ষমতা গড়ে তোলাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, একসঙ্গে ১১টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে এই মহড়া ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশলে একটি নতুন ধাপের ইঙ্গিত দেয়। আগে দেশটি মূলত দ্বিপাক্ষিক বা সীমিত পরিসরের মহড়ায় অংশ নিত, কিন্তু এবার বৃহৎ আকারে বহুপাক্ষিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে আঞ্চলিক সামরিক সহযোগিতা জোরদার করতে চাইছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, বাংলাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের অনুপস্থিতি এই উদ্যোগে একটি উল্লেখযোগ্য প্রশ্ন তৈরি করেছে এবং তা আঞ্চলিক কূটনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: The Times of India ও Indian Army ADG PI