1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৬ অপরাহ্ন

অন্তরের সুস্থতা ও অসুস্থতা: কোন অভ্যাস মানুষকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে

ইসলামিক ডেস্ক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

মানুষের জীবনে অন্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাহ্যিক আচরণ যতই পরিপাটি হোক না কেন, অন্তর যদি সুস্থ না থাকে, তবে সেই মানুষ সঠিক পথে স্থির থাকতে পারে না। একটি সুস্থ অন্তর মানুষকে নৈতিকতা, মানবিকতা ও কল্যাণের দিকে পরিচালিত করে। বিপরীতে, অসুস্থ বা কঠোর অন্তর মানুষকে ধীরে ধীরে ভুল পথে ঠেলে দেয়। সমাজে এমন অনেক মানুষ দেখা যায়, যারা ভালো কথা শুনেও পরিবর্তিত হয় না। এর মূল কারণ তাদের অন্তরের অসাড়তা বা কঠোরতা।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়, অন্তরের অসুস্থতা মানুষের কর্মে সরাসরি প্রভাব ফেলে। নিচে এমন কিছু কারণ তুলে ধরা হলো, যেগুলোর কারণে অন্তর ধীরে ধীরে কঠোর হয়ে যায় এবং ভালো-মন্দ বিচারের ক্ষমতা ক্ষীণ হয়ে পড়ে।

প্রথমত, স্রষ্টার স্মরণ থেকে উদাসীনতা। যারা নিয়মিতভাবে স্রষ্টাকে স্মরণ করে না বা তাঁর নির্দেশনা থেকে দূরে থাকে, তাদের অন্তর ধীরে ধীরে সংকীর্ণ হয়ে যায়। এর ফলে জীবনে অস্থিরতা ও মানসিক চাপ বাড়ে। আত্মিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে মানুষ নিজের ভেতরকার শান্তিও হারিয়ে ফেলে।

দ্বিতীয়ত, নিয়মিত ভুল কাজ বা গুনাহে লিপ্ত থাকা। যখন একজন মানুষ বারবার ভুল কাজ করে এবং তা থেকে ফিরে আসার চেষ্টা করে না, তখন তার বিবেক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। শুরুতে সামান্য অপরাধবোধ থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা হারিয়ে যায়। এতে করে অন্তর ধীরে ধীরে কঠোর হয়ে যায় এবং ভালো কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যায়।

তৃতীয়ত, সীমালঙ্ঘনের প্রবণতা। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ততা বা সীমা অতিক্রম করা—চাই তা ভোগ-বিলাসে হোক বা আচরণে—মানুষের অন্তরকে বিপথগামী করে। যারা নিয়ম-নীতি অমান্য করে, তারা ধীরে ধীরে সঠিক পথ থেকে সরে যায়।

চতুর্থত, অতিরিক্ত দুনিয়ামুখীতা। জীবনে সফলতা অর্জনের চেষ্টা স্বাভাবিক, কিন্তু যখন মানুষ শুধুই ভোগ-বিলাস, অর্থ বা পার্থিব অর্জনের পেছনে ছুটতে থাকে, তখন তার অন্তর কঠিন হয়ে যায়। এতে করে আধ্যাত্মিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পঞ্চমত, অপ্রয়োজনীয় সামাজিকতা ও খারাপ সঙ্গ। সবসময় মানুষের সঙ্গে মিশে থাকা খারাপ নয়, তবে অপ্রয়োজনীয় আড্ডা, গিবত বা নেতিবাচক আলোচনা অন্তরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। খারাপ সঙ্গ ধীরে ধীরে একজন মানুষের চিন্তা ও আচরণ পরিবর্তন করে দেয়।

ষষ্ঠত, অলীক বা অবাস্তব আকাঙ্ক্ষা। বড় স্বপ্ন দেখা ভালো, তবে অযৌক্তিক কল্পনা বা অপ্রয়োজনীয় চিন্তা মানুষকে বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এতে করে মানসিক অস্থিরতা বাড়ে এবং অন্তর অকারণে ভারী হয়ে ওঠে।

সপ্তমত, অতিভোজন। পরিমিত আহার স্বাস্থ্যকর, কিন্তু অতিরিক্ত খাওয়া শরীরের পাশাপাশি মনকেও প্রভাবিত করে। এটি মানুষের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং আত্মসংযম দুর্বল করে।

অষ্টমত, অতিরিক্ত ঘুম। পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন, কিন্তু অতিরিক্ত ঘুম অলসতা বাড়ায় এবং কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এতে করে জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলার অভাব তৈরি হয়, যা অন্তরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

নবমত, অতিরিক্ত হাসি-তামাশা। হাসি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও, অতিরিক্ত হাসি-কৌতুক মানুষকে দায়িত্ববোধ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। এতে করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অবহেলিত হয় এবং অন্তরের গাম্ভীর্য নষ্ট হয়।

দশমত, বিনোদনের অপব্যবহার। গান, নাচ বা অন্যান্য বিনোদন স্বাভাবিক জীবনের অংশ হলেও, যখন তা সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা মানুষকে দায়িত্ব ও নৈতিকতা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত বিনোদনে নিমগ্ন থাকলে আত্মিক চর্চা কমে যায় এবং অন্তর শূন্য হয়ে পড়ে।

সবশেষে বলা যায়, মানুষের অন্তরকে সুস্থ রাখতে হলে ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন অত্যন্ত জরুরি। আত্মনিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা এবং ভালো অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে অন্তরের সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব। অন্তর যত সুস্থ থাকবে, মানুষের আচরণ তত সুন্দর ও পরিপূর্ণ হবে—যা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই কল্যাণকর।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!