অনেকেই অজুকে শুধু নামাজের আগে হাত-মুখ ধোয়ার একটি সাধারণ প্রক্রিয়া মনে করেন। অথচ ইসলামে অজু শুধু বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার মাধ্যম নয়, বরং আত্মিক পবিত্রতা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
পবিত্র আল-কোরআন-এ আল্লাহতায়ালা বলেন, “হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াতে চাও, তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও, মাথায় মাসেহ করো এবং পায়ের টাখনু পর্যন্ত ধুয়ে নাও।” — (সুরা মায়েদা: ৬)
ইসলামে অজুর রয়েছে বহু ফজিলত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাতটি হলো—
অজুর মাধ্যমে মানুষের ছোট ছোট গুনাহ মাফ হয়ে যায়। হাদিসে এসেছে, অজুর সময় শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে পানির ফোঁটার সঙ্গে গুনাহ ঝরে পড়ে। তাই মনোযোগ ও পরিপূর্ণভাবে অজু করা গুরুত্বপূর্ণ।
ঘুমানোর আগে অজু করে শুতে উৎসাহ দিয়েছেন মুহাম্মদ (সা.)। হাদিস অনুযায়ী, অজু অবস্থায় ঘুমালে ফেরেশতারা সেই ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এতে মানসিক প্রশান্তিও বৃদ্ধি পায়।
রাগ মানুষের বিচারবুদ্ধিকে দুর্বল করে দেয়। হাদিসে বলা হয়েছে, রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে এবং শয়তান আগুন থেকে সৃষ্টি। তাই রাগের সময় অজু করলে মানসিক স্থিরতা ফিরে আসে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন তার উম্মতদের অজুর চিহ্ন দেখে চেনা যাবে। নিয়মিত ও সুন্দরভাবে অজু করা তাই একজন মুসলিমের জন্য বিশেষ মর্যাদার বিষয়।
কষ্ট হলেও যত্নসহকারে অজু করলে আল্লাহ জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। বিশেষ করে শীতের সময় ধৈর্যের সঙ্গে অজু করা অধিক সওয়াবের কাজ হিসেবে বিবেচিত।
হাদিসে এসেছে, কেউ যদি সুন্দরভাবে অজু করে মনোযোগের সঙ্গে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, তাহলে তার অতীতের গুনাহ মাফ করা হয়। তাই অজুর পর নফল নামাজ পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উত্তম।
ইসলাম অপচয় নিরুৎসাহিত করেছে। হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) খুব অল্প পানি ব্যবহার করে অজু করতেন। তাই অজুর সময় অপ্রয়োজনীয় পানি অপচয় না করে পরিমিত ব্যবহার করা উচিত।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়