প্রখর রোদে উত্তপ্ত পরিবেশে হঠাৎ একপশলা বৃষ্টি যেন প্রশান্তির বার্তা নিয়ে আসে। প্রকৃতি ফিরে পায় সজীবতা, মানুষের মনেও আসে স্বস্তি। ইসলামের দৃষ্টিতে বৃষ্টি শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা নয়; এটি মহান আল্লাহর রহমত ও নিয়ামত। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বৃষ্টির তাৎপর্য এবং এ সময়ের কিছু বিশেষ আমলের কথা উল্লেখ রয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, “আমি ভূপৃষ্ঠকে বিস্তৃত করেছি, তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং সব ধরনের নয়নাভিরাম উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি।” (সুরা কফ: ৭)। বৃষ্টির মাধ্যমে এই জীবনীশক্তি পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে।
বৃষ্টির সময় মুমিনের জন্য আল্লাহর প্রতি ঈমান দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি হয়। হাদিসে এসেছে, বৃষ্টিকে আল্লাহর রহমত হিসেবে স্বীকার করা ঈমানের অংশ, আর অন্য কিছুর প্রভাবে বৃষ্টি হয়েছে মনে করা ভুল ধারণা।
রাসুল (সা.) বৃষ্টির সময় শরীরের কিছু অংশ ভিজতে দিতেন। তিনি বলেন, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সদ্য প্রেরিত রহমত—তাই তা স্পর্শ করা বরকতময়।
বৃষ্টির সময় রাসুল (সা.) এই দোয়া পড়তেন:
“আল্লাহুম্মা সাইয়িবান নাফিয়া”
অর্থ: হে আল্লাহ, উপকারী বৃষ্টি দান করুন। (সহিহ বোখারি)
হাদিস অনুযায়ী, বৃষ্টির সময় দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই এ সময় বেশি বেশি দোয়া করা উত্তম।
কখনও অতিবৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। কোরআনে অতীত জাতিগুলোর ওপর নেমে আসা শাস্তির কথা উল্লেখ আছে। তাই বৃষ্টির সময় আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা কামনা করা উচিত।
মেঘের গর্জন শুনলে রাসুল (সা.) দোয়া করতেন:
“আল্লাহুম্মা লা তাকতুলনা বিগাদাবিকা, ওয়া লা তুহলিকনা বি আজাবিকা, ওয়া আফিনা কাবলা জালিকা।”
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনার ক্রোধ বা শাস্তি দিয়ে আমাদের ধ্বংস করবেন না; বরং আমাদের নিরাপদ রাখুন।
রাসুল (সা.) প্রয়োজন অনুযায়ী বৃষ্টি কামনা এবং অতিবৃষ্টি বন্ধের জন্যও দোয়া করেছেন। এতে বোঝা যায়, ভারসাম্যপূর্ণ বৃষ্টি মানুষের জন্য কল্যাণকর।
বৃষ্টির সময় তাই শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ নয়, বরং আল্লাহর রহমত স্মরণ করে ইবাদত ও দোয়ায় মনোযোগী হওয়াই একজন মুমিনের দায়িত্ব।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়