1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ন

হজ: ইবাদত, ঐক্য ও বিশ্বমানবতার শিক্ষা

ইসলামিক ডেস্ক
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

মুসলমানদের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও আত্মশুদ্ধির এক মহাসম্মেলন হলো হজ। এটি যেমন একটি ফরজ ইবাদত, তেমনি সামাজিক, নৈতিক ও বৈশ্বিক শিক্ষা-সংস্কৃতির এক অনন্য সমাহার। হজের নিয়ম-কানুন জানা এবং তা সঠিকভাবে পালন করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হজের সূচনা ও ইতিহাস

ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, Kaaba বা কাবা হলো পৃথিবীর প্রথম ইবাদতগৃহ, যা মানবজাতির জন্য হেদায়েত ও বরকতের কেন্দ্র। আল্লাহ তাআলা কাবাকে নিজের ঘর হিসেবে ঘোষণা করেছেন (সুরা আলে ইমরান: ৯৬)।

হজের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে Prophet Ibrahim (আ.) ও তাঁর পুত্র Prophet Ismail (আ.)-এর ঘটনা। আল্লাহর নির্দেশে তাঁরা কাবাঘর পুনর্নির্মাণ করেন এবং মানবজাতিকে হজের আহ্বান জানান (সুরা হজ: ২৭)। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুগে যুগে মানুষ ‘লাব্বাইক’ ধ্বনি উচ্চারণ করে হজ পালন করে আসছে।

প্রাক-ইসলামি যুগ ও নবী যুগে হজ

রাসুলুল্লাহ Prophet Muhammad (সা.)-এর আগেও আরব সমাজে হজের প্রচলন ছিল, তবে তা বিকৃত রূপ ধারণ করেছিল। মূর্তিপূজা, উলঙ্গ তাওয়াফসহ নানা কুসংস্কার এতে যুক্ত হয়।

নবম হিজরিতে হজ ফরজ হওয়ার পর ইসলামের সঠিক বিধান অনুযায়ী হজ পালনের সূচনা হয়। প্রথমবার হজ পালনের জন্য Abu Bakr (রা.)-কে নেতৃত্বে পাঠানো হয়।

হজের বিধান

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো হজ। নির্দিষ্ট সময়ে (৮–১২ জিলহজ) নির্ধারিত কিছু আমল—যেমন ইহরাম, আরাফায় অবস্থান, তাওয়াফ—সম্পন্ন করাকেই হজ বলা হয়।

যে ব্যক্তি আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম, তার ওপর হজ ফরজ। (সুরা বাকারা: ১৯৬; আলে ইমরান: ৯৭)

হজের প্রকারভেদ

হজ তিন ধরনের:

  • ইফরাদ: শুধু হজের নিয়তে ইহরাম
  • তামাত্তু: আগে ওমরা, পরে হজ
  • কিরান: একই ইহরামে ওমরা ও হজ

সাধারণত তামাত্তু হজ সহজ হওয়ায় অধিক প্রচলিত।

ইহরাম ও তালবিয়া

ইহরাম হলো হজের একটি বিশেষ পবিত্র অবস্থা, যা মিকাত অতিক্রমের আগে গ্রহণ করতে হয়। এতে কিছু কাজ হারাম হয়ে যায়—যেমন সুগন্ধি ব্যবহার, চুল-নখ কাটা ইত্যাদি।

তালবিয়া হলো হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দোয়া:

“লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক…”

ওমরা, তাওয়াফ ও সাঈ

মক্কায় পৌঁছে প্রথমে ওমরা পালন করা হয়। এতে থাকে:

  • তাওয়াফ: কাবাকে কেন্দ্র করে সাতবার প্রদক্ষিণ
  • সাঈ: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার যাওয়া-আসা

Safa and Marwa পাহাড়দ্বয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজেরা (আ.)-এর ত্যাগ ও ধৈর্যের ইতিহাস।

হজের মূল কার্যক্রম (৮–১২ জিলহজ)

  • ৮ জিলহজ: মিনায় অবস্থান
  • ৯ জিলহজ: Arafat ময়দানে অবস্থান (হজের মূল রুকন)
  • মুজদালিফা: রাতযাপন ও কঙ্কর সংগ্রহ
  • ১০ জিলহজ: কঙ্কর নিক্ষেপ, কোরবানি, মাথা মুণ্ডন
  • ১১-১২ জিলহজ: মিনায় কঙ্কর নিক্ষেপ

গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ

  • Masjid al-Haram: পৃথিবীর পবিত্রতম মসজিদ
  • Masjid an-Nabawi: মদিনায় অবস্থিত মহান মসজিদ
  • মিনা, আরাফা, মুজদালিফা: হজের প্রধান কার্যক্রমস্থল

বিদায়ি তাওয়াফ ও মদিনা জিয়ারত

হজ শেষে মক্কা ত্যাগের আগে বিদায়ি তাওয়াফ করা হয়। এরপর অনেক হাজি মদিনায় গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা জিয়ারত করেন, যা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

হজ কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ত্যাগ, ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের এক কাতারে দাঁড় করিয়ে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে এই মহান ইবাদত।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!