স্মার্টফোনে ব্লুটুথ সবসময় চালু রাখা অনেকের কাছে স্বাভাবিক অভ্যাস হলেও এর সঙ্গে কিছু বাস্তব নিরাপত্তা ঝুঁকি জড়িয়ে রয়েছে। বর্তমানে হেডফোন, স্মার্টওয়াচ, গাড়ির অডিও সিস্টেম কিংবা ফাইল আদান-প্রদানের মতো নানা কাজে ব্লুটুথ প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে প্রয়োজন শেষে এটি বন্ধ না করলে ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিভাইসের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
প্রথমত, ব্লুটুথ চালু থাকলে ডিভাইস অনেক সময় অন্যদের কাছে ‘ডিসকভারেবল’ অবস্থায় থাকে। ফলে আশেপাশে থাকা কোনো দুর্বৃত্ত সহজেই ডিভাইস শনাক্ত করে অননুমোদিতভাবে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে, যা সাধারণভাবে ব্লুটুথ হ্যাকিং নামে পরিচিত।
দ্বিতীয়ত, ব্লুটুথ চালু থাকলে ডিভাইস থেকে নিরবচ্ছিন্ন সিগন্যাল নির্গত হয়, যা ব্যবহারকারীর অবস্থান ট্র্যাক করার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে। বিশেষ করে শপিং মল বা জনসমাগমস্থলে কিছু ট্র্যাকিং সিস্টেম এই প্রযুক্তি কাজে লাগায়। এতে ব্যবহারকারীর অজান্তেই তার চলাফেরার তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।
তৃতীয়ত, অপরিচিত ডিভাইসের সঙ্গে ভুলবশত সংযুক্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অনেক সময় হ্যাকাররা পরিচিত নাম ব্যবহার করে ব্যবহারকারীকে বিভ্রান্ত করে সংযোগ স্থাপন করায়। একবার সংযুক্ত হয়ে গেলে ডিভাইসের কিছু তথ্য বা ফাংশনে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার পাওয়া যেতে পারে।
চতুর্থত, ব্লুটুথ অপ্রয়োজনে চালু থাকলে ব্যাটারির ওপরও প্রভাব ফেলে। যদিও আধুনিক প্রযুক্তিতে শক্তি খরচ তুলনামূলক কম, তবুও দীর্ঘসময় চালু থাকলে ধীরে ধীরে ব্যাটারি ক্ষয় হয়।
তবে সচেতনভাবে ব্যবহার করলে এসব ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। ব্যবহার শেষে ব্লুটুথ বন্ধ রাখা, ডিভাইসকে নন-ডিসকভারেবল রাখা, অপরিচিত ডিভাইসের সঙ্গে সংযোগ এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করা—এসব অভ্যাস নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক। পাশাপাশি পাবলিক স্থানে ব্লুটুথ ব্যবহারের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করাও জরুরি।