সিলেট বিভাগে হামের সন্দেহজনক উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে এলাকায় সংক্রামক এই রোগ নিয়ে জনমনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু দুটির মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হাম ও রুবেলা সংক্রান্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। এর মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যু সন্দেহজনক উপসর্গে এবং ৩ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
মৃত দুই শিশুর পরিচয় নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা হলো— সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সরতীশ এলাকার আব্দুল আকিকের ৬ মাস বয়সী ছেলে ওমর এবং সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার দরপুর গ্রামের টুটুল সরকারের ৫ মাস বয়সী ছেলে প্রিয়ম সরকার।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) Dr. Mohammad Nure Alam Shamim জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৩ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে একজনের শরীরে ল্যাবরেটরিতে হাম শনাক্ত হয়েছে।
বর্তমানে পুরো বিভাগে প্রায় ২০০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮৩ জন ভর্তি আছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম ও রুবেলা আক্রান্তের সংখ্যা ১২৮ জন। জেলাভিত্তিক হিসাবে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৬৪ জন, সিলেটে ৪০ জন, মৌলভীবাজারে ১৬ জন এবং হবিগঞ্জে ৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আক্রান্তদের বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা দেওয়া এই রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকায় টিকাদান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে, শিশুদের মধ্যে জ্বর বা ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়