নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর পার হলেও আইনি জটিলতার কারণে এখনো চালু করা যাচ্ছে না শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফলে উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা Md. Abdul Kaiyum Khan সোমবার জানান, কাজ শেষ হলেও আইনজীবী মাসুদুর রহমান দেওয়ানের দায়ের করা রিটের কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো ভবনটি বুঝিয়ে দিতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় গত শুক্রবার গভীর রাতে হাসপাতাল ভবনে চুরির ঘটনা ঘটে। এতে এসি, সিসি ক্যামেরা, জেনারেটর ও প্যাথলজিক্যাল যন্ত্রপাতিসহ প্রায় ৩৭ লাখ টাকার মালামাল খোয়া গেছে।
জানা যায়, ৫০ শয্যার নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি আগে মূলফৎগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত ছিল। তবে ২০১৮ সালে পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে পুরোনো ভবনের বেশিরভাগ অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বাসিন্দারা চরম স্বাস্থ্যসেবা সংকটে পড়েন।
পরবর্তীতে নড়িয়া পৌরসভা এলাকায় উপজেলা পরিষদের কাছে প্রায় ৬ একর জমিতে ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০২০ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর শেষ হয়।
কিন্তু কেদারপুর এলাকার বাসিন্দা মাসুদুর রহমান দেওয়ান পুরোনো স্থানেই হাসপাতাল চালুর দাবিতে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন। সেই রিটের নিষ্পত্তি না হওয়ায় হাসপাতালটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন Rehan Uddin।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হাসপাতালটি চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটি ব্যবহার না হওয়ায় ভেতরের মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাচ্ছে।
নড়িয়া থানার ওসি Md. Bahar Mia জানান, চুরির ঘটনায় স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী দেবব্রত হাওলাদার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। মামলা দায়ের হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী Ahsan Habib বলেন, ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের ধারণা, আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় ভবনটি ফাঁকা ছিল। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে।