লাল গ্রহ মঙ্গল নিয়ে দীর্ঘদিনের গবেষণায় নতুন অগ্রগতির কথা জানিয়েছে নাসা। সংস্থাটির কিউরিওসিটি রোভার প্রাচীন শিলায় জটিল জৈব অণুর উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছে, যা অতীতে সেখানে প্রাণের জন্য অনুকূল পরিবেশ থাকতে পারে—এমন ধারণাকে আরও শক্তিশালী করছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে গঠিত বেলেপাথরের নমুনায় এমন কিছু উপাদান শনাক্ত হয়েছে, যা জীবনের মৌলিক রাসায়নিক ভিত্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রোভারটি গেল ক্রেটার-এর গ্লেন টরিডন এলাকা থেকে কাদামিশ্রিত শিলা সংগ্রহ করে। এরপর রোভারের ‘স্যাম্পল অ্যানালাইসিস অ্যাট মার্স’ (SAM) যন্ত্রের মাধ্যমে সেগুলোর বিস্তারিত রাসায়নিক বিশ্লেষণ করা হয়। প্রযুক্তিবিষয়ক মাধ্যম এনগ্যাজেট এ তথ্য জানিয়েছে।
এই গবেষণায় ‘ওয়েট কেমিস্ট্রি’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে প্রথমবারের মতো টেট্রামিথাইল অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (TMAH) প্রয়োগ করা হয়। এই রাসায়নিক বড় জৈব অণুগুলোকে ভেঙে ছোট অংশে রূপান্তর করে, ফলে সেগুলো সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
পরীক্ষায় ২০টিরও বেশি জৈব অণুর উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ন্যাপথলিন ও বেনজোথিওফিনের মতো তুলনামূলক জটিল যৌগ রয়েছে। পাশাপাশি নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ ‘এন-হেটেরোসাইকেল’ ধরনের অণুও পাওয়া গেছে, যা ডিএনএ ও আরএনএ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত।
গবেষণার প্রধান লেখক এমি উইলিয়ামস নাসার এক বিবৃতিতে বলেন, “এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এসব অণু নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ জটিল জৈব যৌগ তৈরির প্রাথমিক উপাদান হতে পারে। এর আগে মঙ্গলের পৃষ্ঠে বা সেখান থেকে আসা উল্কাপিণ্ডে এ ধরনের অণুর উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি।”
তবে গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই ফলাফল মঙ্গলে অতীতে প্রাণের অস্তিত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। বরং এটি ইঙ্গিত দেয় যে, কোনো এক সময় গ্রহটিতে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান বিদ্যমান থাকতে পারে।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই জৈব পদার্থগুলো মঙ্গলের পরিবেশে কোটি কোটি বছর ধরে টিকে থাকতে সক্ষম—যা ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
গবেষকরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানে নতুন দিক নির্দেশনা দেবে। বিশেষ করে রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন রোভার এবং ড্রাগনফ্লাই মিশন-এর মতো আসন্ন অভিযানে একই ধরনের রাসায়নিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এসব মিশন ২০২৮ সালের আগে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী নেচার-এ।
সামগ্রিকভাবে, এই আবিষ্কার মঙ্গলে প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও গভীর অনুসন্ধানের পথ খুলে দিতে পারে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়