1. adm3ijmpg@example.com : adm3ijmpg :
  2. adm53gqu5@example.com : adm53gqu5 :
  3. admg4o2lv@example.com : admg4o2lv :
  4. admiztuem@example.com : admiztuem :
  5. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  6. info@www.media71bd.com : TV :
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০১:৫৩ অপরাহ্ন

ব্যাংক আমানতের আবগারি শুল্কে বড় ছাড়ের প্রস্তাব, ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের স্বস্তির আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

ব্যাংকে জমা রাখা অর্থের ওপর ‘আবগারি শুল্ক’ কাটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কমে যাওয়া প্রকৃত সুদহার এবং ব্যাংক খাত নিয়ে আস্থার সংকটের মধ্যে এই শুল্ককে অনেকেই সঞ্চয়ের ওপর বাড়তি চাপ হিসেবে দেখছেন। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্কে বড় ছাড়ের প্রস্তাব আসতে পারে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যাংক হিসাবে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা থাকলে কোনো আবগারি শুল্ক দিতে হবে না। বর্তমানে এই সীমা ৩ লাখ টাকা। ফলে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ক্ষুদ্র আমানতকারীরা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারেন। সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, ব্যাংকিং খাতে সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রাখা এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের স্বস্তি দিতেই এই উদ্যোগ।

বর্তমানে ব্যাংক হিসাবে এক বছরে সর্বোচ্চ ব্যালেন্সের ভিত্তিতে আবগারি শুল্ক কাটা হয়। ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত কোনো শুল্ক নেই। ৩ থেকে ১০ লাখ টাকার মধ্যে ৫০০ টাকা শুল্ক দিতে হয়, এরপর ধাপে ধাপে হার বাড়ে। ৫ কোটি টাকার বেশি জমায় বছরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত শুল্ক কাটা হয়। নতুন প্রস্তাবে কেবল প্রথম ধাপের সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার কথা ভাবা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সরকার আপাতত ক্ষুদ্র আমানতকারীদের ওপর চাপ কমাতে চায়। তাই প্রথম স্তরের সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, কিছু ব্যাংকের তারল্য সংকট এবং দুর্বল আর্থিক অবস্থার কারণে মানুষের আস্থা কমেছে। এর সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি যুক্ত হয়ে সঞ্চয়ের প্রকৃত লাভ অনেক ক্ষেত্রেই কমে গেছে। ফলে আবগারি শুল্ক ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।

ব্যাংকাররা বলছেন, শুল্ক এড়াতে অনেক গ্রাহক অর্থ ভাগ করে একাধিক হিসাবে রাখেন, যা ব্যাংকিং ব্যবস্থার কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে। নগদ অর্থে ঝোঁকও বাড়ে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়।

বর্তমানে ব্যাংক খাত থেকে সরকার বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা আবগারি শুল্ক আদায় করে। নতুন সীমা কার্যকর হলে রাজস্ব প্রায় ৫০০ কোটি টাকা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নীতিনির্ধারকদের মতে, ক্ষুদ্র আমানতকারীদের স্বস্তি ও ব্যাংক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরেই এই শুল্কের সমালোচনা করছেন। তাদের মতে, এটি প্রকৃত আয়ভিত্তিক নয়, বরং সঞ্চয়ভিত্তিক কর, যা মানুষকে ব্যাংকে টাকা রাখতে নিরুৎসাহিত করে। কেউ কেউ সম্পদ বা আয়ভিত্তিক কর কাঠামোর দিকে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু শুল্কের সীমা বাড়ালেই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। ব্যাংক খাতে সুশাসন, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ মানুষের আস্থা থাকলেই ব্যাংক ব্যবস্থায় সঞ্চয় বাড়বে।

সব মিলিয়ে আগামী বাজেটে আবগারি শুল্কে এই ছাড়কে শুধু কর সুবিধা নয়, বরং ব্যাংক খাতে আস্থা পুনর্গঠন এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের স্বস্তি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!