ইসলামে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই কোরবানির পশু নির্বাচন, শরিকানা, বয়স, মালিকানা ও অন্যান্য বিধান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি। ইসলামী শরিয়তে কোরবানির জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
যে পশু কোরবানি করা হবে, তার ওপর কোরবানিদাতার পূর্ণ মালিকানা থাকতে হবে। বন্ধকি পশু, কর্জ করা পশু কিংবা পথে পাওয়া পশু দিয়ে কোরবানি আদায় হবে না।
কোরবানির জন্য গৃহপালিত পশু যেমন—গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ও উট বৈধ। তবে হরিণ বা বন্যগরুর মতো বন্য পশু এবং হাঁস-মুরগি বা অন্য কোনো পাখি দিয়ে কোরবানি জায়েজ নয়।
শরিয়ত অনুযায়ী কোরবানির পশুর নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হতে হবে।
তবে ভেড়া বা দুম্বা যদি এক বছরের কম হলেও দেখতে এক বছরের মতো স্বাস্থ্যবান ও বড় মনে হয়, তাহলে তা দিয়েও কোরবানি করা জায়েজ।
ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা শুধুমাত্র একজনের পক্ষ থেকে কোরবানি করা যাবে। একাধিক ব্যক্তি মিলে এসব পশুতে শরিক হলে কারও কোরবানি সহিহ হবে না।
অন্যদিকে গরু, মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হতে পারবেন। সাতজনের বেশি শরিক হলে কোরবানি সহিহ হবে না।
শরিকদের প্রত্যেকের অংশ সমান হতে হবে এবং কারও অংশ এক-সপ্তমাংশের কম হতে পারবে না। একই সঙ্গে সব শরিকের নিয়ত হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি আদায় করা।
যদি কোনো ব্যক্তি শুধু গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে শরিক হন, তাহলে অন্যদের কোরবানিও সহিহ হবে না। তাই শরিক নির্বাচন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে বলা হয়েছে।
কোরবানির জন্য ব্যবহৃত অর্থ অবশ্যই হালাল হতে হবে। হারাম উপার্জনের টাকা দিয়ে কোরবানি সহিহ হয় না। এমন ব্যক্তিকে শরিক করা হলে অন্য শরিকদের কোরবানিও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
কেউ যদি একা কোরবানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে গরু, মহিষ বা উট ক্রয় করেন, পরে চাইলে অন্যকে শরিক করতে পারবেন। তবে গরিব ব্যক্তি, যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, তিনি কোরবানির নিয়তে পশু কেনার পর অন্যকে শরিক করতে পারবেন না।
গর্ভবতী পশু কোরবানি করা জায়েজ। তবে প্রসবের সময় খুব কাছাকাছি হলে তা মাকরুহ। জবাইয়ের পর বাচ্চা জীবিত পাওয়া গেলে সেটিও জবাই করতে হবে।
কোরবানির পশু মোটা-তাজা, সুস্থ ও ত্রুটিমুক্ত হওয়া উত্তম। জন্মগতভাবে শিং না থাকা বা মাঝখানে শিং ভাঙা পশু দিয়েও কোরবানি জায়েজ।
তবে এমন অসুস্থ বা পাগল পশু, যা স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করতে পারে না, তা দিয়ে কোরবানি সহিহ হবে না।
যে পশু সবসময় নাপাক খেয়ে বেঁচে থাকে, তা দিয়ে কোরবানি করা বৈধ নয়। তবে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পরিষ্কার খাবার খাওয়ানোর পর তা কোরবানির উপযুক্ত হতে পারে।
কোরবানির জন্য নির্ধারিত পশু দিয়ে হালচাষ, বোঝা বহন বা পশম কাটা মাকরুহ। এমন করলে তার মূল্য সদকা করতে হবে।
একইভাবে কোরবানির পশুর দুধ পান করাও জায়েজ নয়। প্রয়োজনে দুধ দোহন করলে তা সদকা করে দিতে হবে।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই কোরবানির আগে এসব মাসআলা ভালোভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়