চট্টগ্রাম নগরজুড়ে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। মূল সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত এসব কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কুকুরের সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই কামড়ের ঘটনা ঘটছে।
নগরী ও আশপাশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ জন মানুষ জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চালালেও এখনো শতভাগ কুকুরকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, নগরীতে বেওয়ারিশ কুকুরের সঠিক পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই। ফলে কত কুকুর টিকার বাইরে রয়েছে, তা নির্ধারণ করাও কঠিন।
চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি চসিক প্রায় ১৫ হাজার বেওয়ারিশ কুকুরকে টিকা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার কুকুরকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিকেল ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)–এর পরিচালক ডা. ইফতেখার আহম্মদ জানান, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিচ্ছেন, যার মধ্যে কুকুরের কামড়ের ঘটনাই বেশি।
তিনি বলেন, পোষা কুকুর-বিড়ালকে নিয়মিত টিকার আওতায় আনা গেলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি অনেক কমে যেত।
চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমাম হোসেন রানা বলেন, লক্ষ্য ছিল অন্তত ৭০ শতাংশ কুকুরকে টিকার আওতায় আনা, যাতে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়। তবে বাস্তবে কত শতাংশ কভার হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, কুকুর নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টিকাদান ও বুস্টার ডোজ প্রয়োজন। বর্তমান কার্যক্রম যথেষ্ট নয় বলেও তিনি মত দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাতঙ্ক প্রাণঘাতী হলেও প্রতিরোধযোগ্য রোগ। নিয়মিত টিকাদান ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়