দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নারী ও তরুণ ভোটারদের গুরুত্ব বাড়ার প্রেক্ষাপটে নতুন সাংগঠনিক উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ‘ছাত্রী উইং’ গঠনের পরিকল্পনা করছে দলটি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। ইতোমধ্যে সংগঠনের কাঠামো, নেতৃত্ব এবং কার্যপরিধি নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন পর্যালোচনা করে দলটির নেতারা মনে করছেন, নারী ভোটার ও তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংগঠনিক উপস্থিতি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্যাম্পাসভিত্তিক রাজনীতিতে সক্রিয়তা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দলটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বিদ্যমান মহিলা ইউনিটের মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থীদের কাছে প্রত্যাশিতভাবে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণেই আলাদা প্ল্যাটফর্ম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারী শিক্ষার্থী ও তরুণ ভোটারদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে অন্যান্য ইসলামপন্থী দলের সাংগঠনিক কাঠামোও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনী রাজনীতিতে তাদের সক্রিয়তা নতুন চিন্তার জন্ম দিয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন ছাত্রী উইং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের মতোই মূল দলের অধীনে স্বতন্ত্র ইউনিট হিসেবে পরিচালিত হবে। শুরুতে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এতে আলেমা, শিক্ষক, চিকিৎসক এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিভাগ, জেলা, ক্যাম্পাস ও থানা পর্যায়েও সংগঠনের বিস্তার ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দলীয় নেতারা বলছেন, এই উদ্যোগ শুধু নির্বাচনী রাজনীতির জন্য নয়; বরং নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামী মূল্যবোধ, সামাজিক নেতৃত্ব, দাওয়াহ কার্যক্রম ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যও রয়েছে।
তবে সংগঠনটি মাঠের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কতটা সক্রিয় হবে, নাকি মূলত সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ থাকবে—তা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা চলছে।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, আসন্ন কেন্দ্রীয় সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পরে দলের আমিরের অনুমোদন সাপেক্ষে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।