
১৯ বছর বয়সী ফারহান আলী ওয়াহিদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি বাংলাদেশের জাতীয় দলের ফুটবলার। প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পর থেকেই দেশের মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনে অভিভূত এই তরুণ উইঙ্গার।
ইংল্যান্ডে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফারহান এখনও বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামেননি। তবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দলে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। জাতীয় দলের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার আগে তাই আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেকের অপেক্ষায় রোমাঞ্চিত এই তরুণ।
প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে ফারহান বলেন, ‘এটা দারুণ ছিল। নিজের দেশ, নিজের জাতি এবং নিজের ব্যাকগ্রাউন্ডকে প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য খুবই রোমাঞ্চকর। সমর্থকদের কাছ থেকেও প্রচুর সমর্থন পাচ্ছি। শুরু করার জন্য আমি সত্যিই মুখিয়ে আছি।’
ফারহানের বাংলাদেশি পরিচয় এসেছে তাঁর বাবার দিক থেকে। ইংল্যান্ডে বেড়ে উঠলেও পরিবার ও শিকড়ের সূত্রে বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়। তবে ফুটবলার হিসেবে তাঁর বেড়ে ওঠা পুরোপুরি ইংল্যান্ডের ফুটবল কাঠামোয়।
অনূর্ধ্ব-১২ পর্যায়ে চেলসির একাডেমিতে থাকার পর ফুলহামের একাডেমিতে যোগ দেন ফারহান। বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে ফুলহামের অনূর্ধ্ব-২১ দলেও খেলেছেন তিনি। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ-২-এ ছয় গোল করার পাশাপাশি নয়টি অ্যাসিস্ট করে নজর কাড়েন এই উইঙ্গার।
চলতি মৌসুমে নিয়মিত সিনিয়র ফুটবলের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ধারে ইংল্যান্ডের পঞ্চম স্তরের ক্লাব বোরহামউডে খেলছেন ফারহান। সেখানেই তিনি পেশাদার ফুটবলের ভিন্ন পরিবেশে নিজেকে আরও পরিণত করার সুযোগ পাচ্ছেন।
ইংল্যান্ডের ফুটবল কাঠামোয় বেড়ে ওঠা ফারহানের জন্য বাংলাদেশের মানুষের এমন উচ্ছ্বাস কিছুটা বিস্ময়েরও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে ঘিরে দেশের সমর্থকদের প্রতিক্রিয়াও নিয়মিত দেখছেন তিনি। জাতীয় দলে প্রথম ডাক পাওয়ার পর যে ভালোবাসা পেয়েছেন, সেটিই তাঁকে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।
ফারহান বলেন, ‘এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমি যে পরিমাণ সমর্থন পাচ্ছি, তা অসাধারণ, অবাস্তব বলে মনে হয়। শুরুতেই এ ধরনের সমর্থন পাওয়া আমাকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে এবং দেশের জন্য ভালো কিছু করতে উৎসাহিত করে।’
ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশের হয়ে ফারহানের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসিয়ান কাপে অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর সিঙ্গাপুর ও স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে দলটি।
প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথমবার বাংলাদেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামার সুযোগ পেলে সেটি ফারহানের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে। জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আগে তাঁর প্রত্যাশাও স্পষ্ট।
ফারহান বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ায় দলের সঙ্গে যোগ দিতে পেরে আমি খুবই রোমাঞ্চিত। আশা করি, আমরা সেখানে গিয়ে জয়লাভ করতে পারব।’