1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষঃ
পরিচয়পত্র ছাড়া হকারি নয়, নির্ধারিত এলাকার বাইরে ব্যবসাও বন্ধ: ডিএসসিসি প্রশাসক ঢামেকের জরুরি বিভাগের সামনে কিশোরীর মরদেহ, রেখে পালালেন দুই ব্যক্তি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কাঠের সেতু ভেঙে বিপত্তিতে এমপি আব্দুস সাত্তার সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডে মধ্যস্থতায় মামলা নিষ্পত্তির সুযোগ আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের তথ্য সঠিক নয়: তথ্যমন্ত্রী সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডনের জামিন নামঞ্জুর চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন চাঁদাবাজি মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে সাভারে আবারও প্রেসার কুকার থেকে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার, আতঙ্ক বরিশাল আদালত চত্বরে ককটেল সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণ, আতঙ্ক বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

মুদি দোকান করের আওতায়: রাজস্ব সংস্কার নাকি নতুন চ্যালেঞ্জ?

মোঃ এম রহমান
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে দেশের ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসাকে করের আওতায় আনার যে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে, তা স্বাভাবিকভাবেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মুদি দোকান, কসমেটিকসের দোকান, বিউটি পার্লার, রেস্তোরাঁসহ ১৭ ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসাকে সুনির্দিষ্ট কর বা নির্ধারিত ভ্যাট ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগকে একদিকে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে এটি দেশের অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং সাধারণ ভোক্তার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম নিম্ন। দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করের আওতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। অথচ দেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনও অনানুষ্ঠানিক খাতে পরিচালিত হয়, যেখানে ব্যবসার প্রকৃত আয়-ব্যয়ের তথ্য সরকারের কাছে নেই। এনবিআরের হিসাবে বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ ৭৫ হাজার প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় থাকলেও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির দাবি, দেশে খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। অর্থাৎ বিশাল একটি অর্থনৈতিক খাত কার্যত কর ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে।

এই বাস্তবতায় সরকার ব্যবসার ধরন, অবস্থান ও আকার বিবেচনায় নির্দিষ্ট অঙ্কের কর আরোপের চিন্তা করছে। আলোচনা অনুযায়ী, বছরে এক হাজার, পাঁচ হাজার কিংবা ১০ হাজার টাকার মতো নির্ধারিত কর ধার্যের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে নীতিগতভাবে বিষয়টি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবতা ততটাই জটিল। দেশের অসংখ্য ক্ষুদ্র দোকানের কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেই, টিআইএন নেই, নিয়মিত হিসাব সংরক্ষণ হয় না, এমনকি অনেকেই ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গেও পুরোপুরি সম্পৃক্ত নন। ফলে প্রথম প্রশ্ন হলো— সরকার এসব প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করবে কীভাবে? দ্বিতীয় প্রশ্ন— কর আদায়ের প্রশাসনিক ব্যয় আদায়কৃত রাজস্বের তুলনায় কতটা যৌক্তিক হবে?

অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা জরুরি। তবে সেটি হওয়া উচিত ধাপে ধাপে। প্রথমে ব্যবসাগুলোর নিবন্ধন, তথ্যভান্ডার তৈরি, ডিজিটাল লেনদেন এবং সহজ কর ব্যবস্থার মাধ্যমে আস্থা গড়ে তুলতে হবে। এরপর কর আরোপ করলে তা বাস্তবসম্মত হবে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর উদ্বেগও উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তাদের মতে, অতীতে প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থা প্রত্যাশিত সফলতা পায়নি। নতুন নামে একই ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে মাঠপর্যায়ে হয়রানি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং অতিরিক্ত তদারকির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অনেকেই মনে করেন, সামান্য মূলধনের ব্যবসায় নির্দিষ্ট করও অতিরিক্ত চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভোক্তার স্বার্থ। ব্যবসায়ীরা সাধারণত অতিরিক্ত ব্যয় পণ্যের দামের সঙ্গে সমন্বয় করার চেষ্টা করেন। ফলে ক্ষুদ্র দোকানের ওপর কর আরোপ করা হলে তার প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।

এখানে আরও একটি প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক। বর্তমানে ভ্যাট রাজস্বের বড় অংশই আসে সীমিতসংখ্যক বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। ব্যবসায়ী নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, অল্প কয়েক হাজার বড় প্রতিষ্ঠান মোট ভ্যাট আয়ের প্রায় ৯৮ শতাংশ পরিশোধ করে। তাই বড় করদাতাদের ভ্যাট ফাঁকি রোধ, ডিজিটাল ইনভয়েসিং, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করলে রাজস্ব আহরণ আরও কার্যকরভাবে বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।

তবে এটিও সত্য যে, একটি আধুনিক অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিশাল অনানুষ্ঠানিক খাতকে কর ব্যবস্থার বাইরে রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া হতে হবে অংশগ্রহণমূলক, ধীরগতির এবং আস্থাভিত্তিক। কেবল কর আরোপ নয়, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিবন্ধন, সহজ কর পরিশোধ, হয়রানিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং করদাতাবান্ধব সেবা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, মুদি দোকানসহ ক্ষুদ্র ব্যবসাকে করের আওতায় আনার উদ্যোগকে শুধু রাজস্ব বৃদ্ধির কর্মসূচি হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি দেশের অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় রূপান্তরের একটি দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার। এই সংস্কারের সফলতা নির্ভর করবে সরকারের বাস্তবায়ন কৌশল, প্রশাসনিক সক্ষমতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সবচেয়ে বেশি— ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জনের ওপর। প্রস্তুতি ও অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে এগোতে পারলে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ফল দিতে পারে; অন্যথায় এটি রাজস্বের চেয়ে বেশি জটিলতা ও অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page